Thursday, 9 July, 2026
9 July
HomeখেলাSiliguri: মান্তু-সুব্রত বনাম কস্তুরী-মৃন্ময়; শিলিগুড়ির টেবিল টেনিসে অন্তর্দ্বন্দ্ব

Siliguri: মান্তু-সুব্রত বনাম কস্তুরী-মৃন্ময়; শিলিগুড়ির টেবিল টেনিসে অন্তর্দ্বন্দ্ব

শিলিগুড়ি ডিস্ট্রিক্ট টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন জাতীয় টিটি চ্যাম্পিয়ন কস্তুরী চক্রবর্তী, মৃন্ময় রায়-সহ বিভিন্ন ক্লাবের কোচরা ৷

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

একসময় বিশ্বমঞ্চে দাপিয়ে বেড়াত শিলিগুড়ির টেবিল টেনিস ৷ মান্তু ঘোষ, কস্তুরী চক্রবর্তীদের উত্তরসূরি হিসেবে সৌম্যজিৎ ঘোষ এবং অঙ্কিতা দাসের মতো অলিম্পিয়ানরা এই শহরের নাম উজ্জ্বল করেছেন ৷ কিন্তু, গত কয়েক বছরে সেই সাফল্যের গ্রাফ নিম্নমুখী ৷ মান্তু ঘোষের শহর থেকে এখন আর নতুন কোনও জাতীয় চ্যাম্পিয়ন বা অলিম্পিয়ান উঠে আসছে না ৷ প্রশ্ন উঠছে কেন ?

এই ইস্যুতে অভিযোগ উঠেছে, এর নেপথ্যে রয়েছে শিলিগুড়ি টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব ৷ শিলিগুড়ি টেবিল টেনিসের প্রবীণ কোচ অমিত দাম এবং অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত মান্তু ঘোষ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে গিয়েছেন ৷ তার জেরে প্রতিনিয়ত দু’তরফে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি চলছে বলে অভিযোগ ৷

আরও পড়ুনঃ ঝেঁপে নামবে বৃষ্টি! আবহাওয়ার বিরাট বদল

বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে গ্রেটার শিলিগুড়ি ডিস্ট্রিক্ট টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন জাতীয় টিটি চ্যাম্পিয়ন কস্তুরী চক্রবর্তী, মৃন্ময় রায়-সহ বিভিন্ন ক্লাবের কোচরা ৷ তাঁদের মূল অভিযোগ, অ্যাসোসিয়েশন সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং সব ক্লাবের খেলোয়াড়দের সমান সুযোগ না-দিয়ে শুধু মান্তু ঘোষ ও তাঁর স্বামী কোচ সুব্রত রায় (রাজা)-এর ক্লাবকে অতিরিক্ত সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে ৷ অভিযোগ করা হয়েছে, শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেবের উদ্যোগে ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুশীলনের যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেখানেও মান্তু ঘোষ শুধু নিজের ক্লাবের প্যাডলারদের সুযোগ দিচ্ছেন ৷

কস্তুরী চক্রবর্তীর বলেন, “এই নোংরা রাজনীতির কারণেই শিলিগুড়ির 17 জন জাতীয় র‍্যাংকিংয়ের প্রতিভাবান প্যাডলার শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে ৷ অথচ এই খেলোয়াড়রা আগামী দিনে শহরের হয়ে প্রচুর পুরস্কার আনতে পারত ৷ এমনকি এই অ্যাসোসিয়েশনে কোনও নিয়মনীতি নেই ৷ বার্ষিক সাধারণ সভাও ঠিকমতো হয় না ৷ অডিট রিপোর্ট পেশ করা হয় না ৷”

ইতিমধ্যেই এই সংকটের কথা জানিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-র দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা ৷ কস্তুরী চক্রবর্তী আরও অভিযোগ করেন, “ইন্টারন্যাশনাল আম্পায়ার ও আইটিটিএফ (ITTF) রেফারি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্বামী মৃন্ময় রায়কে অনূর্ধ্ব-১০ বিভাগের রাজ্য স্তরের টুর্নামেন্টে রেফারি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি ৷” মৃন্ময় রায় অভিযোগ করেছেন, শিলিগুড়ির ছোট ছোট প্রায় ২0-২৫টি টেবিল টেনিস ক্লাবকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে ৷

অমিত দাম শিবিরের বিরুদ্ধে পালটা তোপ দেগেছেন সুব্রত রায় এবং মান্তু ঘোষ ৷ কস্তুরী এবং মৃন্ময়ের এই সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মান্তু ঘোষ শিবির ৷ মান্তু ঘোষের বক্তব্য, “ওই ১৭ জন খেলোয়াড় শহর ছেড়ে যায়নি ৷ তাঁরা বেঙ্গল টেবিল টেনিস অ্যাকাডেমিতে (BTTA) সুযোগ পেয়ে ভালো পরিকাঠামোয় অনুশীলনের জন্য সেখানে গিয়েছে ৷ আমি নিজেও চাই আমাদের প্যাডলারদের যাতে বাইরের অ্যাকাডেমি তুলে না-নেয়, সেজন্য আমি ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি ৷”

ইন্ডোর স্টেডিয়াম ব্যবহারের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উড়িয়ে তিনি জানান, তাঁর কাছে সমস্ত লিখিত কাগজ রয়েছে ৷ সেখানে প্রতিটি ক্লাবের জন্যই নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা থাকে ৷ কস্তুরী চক্রবর্তীদের দিকে পালটা তোপ দেগে তিনি বলেন, “এরা এসব নোংরা রাজনীতি করে টেবিল টেনিসের ক্ষতি করছে ৷”

আরও পড়ুনঃ দ্রুত গলছে ‘বাবা বরফানি’! অমরনাথ যাত্রার শুরুতেই উদ্বেগ

অন্যদিকে, অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুব্রত রায় প্রতিটি অভিযোগের পালটা জবাব দিয়েছেন ৷ অডিট রিপোর্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বার্ষিক সভার তারিখ, অডিট রিপোর্ট বা ভোটার তালিকা—সব কিছুই নিয়ম মেনে রাজ্য সংস্থাকে পাঠানো হয় এবং ক্লাবগুলিকেও জানানো হয় ৷ যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁরা অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যই নন ৷ তাই কোনও রিপোর্টের কপি পাননি ৷”

মৃন্ময় রায়ের রেফারি না-হতে পারার বিষয়ে সুব্রত বলেন, “বেঙ্গলের টুর্নামেন্টে রেফারি নিয়োগের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে বেঙ্গল টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (BTTA), সেখানে জেলা সংস্থার কোনও হাত থাকে না ৷” উলটে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শিলিগুড়িতে স্টেট টেবিল টেনিস অ্যাকাডেমি তৈরি হওয়ার পর থেকে কস্তুরী চক্রবর্তী এবং তাঁর স্বামী ক’দিন সেখানে গিয়েছেন বা বাচ্চাদের কোচিং করিয়েছেন ? সেখানে কোচিং না-করিয়ে তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত অ্যাকাডেমি চালাচ্ছেন এবং অন্য ক্লাবের সদস্যদের ভুল বোঝাচ্ছেন ৷”

সুব্রত রায়ের দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে না-পেরে এবং অ্যাকাডেমি থেকে খেলোয়াড়রা চলে যাওয়ার ক্ষোভেই কস্তুরী এবং মৃন্ময় জুটি এই ধরনের মিথ্যা ছড়াচ্ছেন ৷ তিনি জানান, অ্যাকাডেমিতে সুযোগ পাওয়া খেলোয়াড়দের আটকানোর আইনি অধিকার অ্যাসোসিয়েশনের নেই ৷ অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই টানাপোড়েনে শিলিগুড়ির টেবিল টেনিসের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে ৷ ক্রীড়াপ্রেমীদের আশঙ্কা, কর্তাদের এই লড়াইয়ের বলি হতে হচ্ছে শহরের উদীয়মান ও প্রতিভাবান প্যাডলারদের ৷

 

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন