Saturday, 4 July, 2026
4 July
HomeখেলাFIFA: মান বাঁচালেন সেই Number 10, কেপ ভার্দেকে হারাল আর্জেন্টিনা

FIFA: মান বাঁচালেন সেই Number 10, কেপ ভার্দেকে হারাল আর্জেন্টিনা

কোনও মতে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা, মন জিতল কাবো ভার্দের লড়াই, মেসিদের দুর্বলতা দেখিয়ে দিলেন ভোজ়িনহারা

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

ফুটবল বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-র ম্যাচে আর্জেন্টিনা বনাম কাবো ভার্দে ম্যাচের ট্যাগলাইন নিঃসন্দেহে এটাই। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমে ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য লড়াই করল ছোট্ট আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্র। ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবলের নক-আউট পর্বে ওঠার পরে মায়ামিতে নিজের জীবন বাজি রেখে লড়াই করে ৩-২ গোলে হেরে গেল (ফুটবলের ভাষায় হারল, আসলে তো জিতল) আর্জেন্টিনার কাছে। দু’বার পিছিয়ে পড়ল। দু’বার সমতায় ফিরল। শেষপর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে হেরে যেতে এল।

এটা আসলে কাবো ভার্দের জয়

তবে সেটা আসলে হার নয়, এটা আসলে কাবো ভার্দের জয়। শুধু নিজেরা ‘জিতল’ না, জিতিয়ে দিয়ে গেল বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলার স্বপ্ন দেখা বিশ্বের প্রতিটি দেশকে। ভোজিনহারা জিতিয়ে দিয়ে গেলেন দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করা প্রত্যেক মানুষকে, প্রবল পরাক্রমীর বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া প্রত্যেক মানুষকে। মায়ামির প্রতিটি রাস্তা, বিশ্বের প্রতিটি রাস্তা কোনওদিন ভুলবে না ভোজিনহা (আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আটটি সেভ করেন), সিডনি কাবরালদের সেই লড়াই।

আরও পড়ুনঃ কড়া প্রশাসন, এবার ইসলামপুরে নিষিদ্ধপল্লিতে ওড়ানো হল ড্রোন!

গ্রুপের একটি ম্যাচেও হারেনি কাবো ভার্দে

অথচ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আগে ভোজিনহা তো বটেই, কাবো ভার্দে দেশটার নাম কতজন জানতেন, সেটাই হাতে গুনে বলে দেওয়া যাবে। সেই দেশটাই স্পেন, উরুগুয়েদের গ্রুপ থেকে একটাও ম্যাচ না হেরে নক-আউটের টিকিট ছিনিয়ে নেয়। কিন্তু নক-আউটের প্রবল ম্যাচেই আর্জেন্টিনার মুখে পড়তে হবে শুনেই সম্ভবত ভোজিনহাদের ভবিষ্যৎ লিখে ফেলা হয়েছিল।

মেসির দুর্দান্ত গোল, ভোজিনহার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো

মায়ামিতে শুরুটাও সেভাবেই করেছিলেন মেসিরা। ২৯ মিনিটে দুর্দান্ত গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন ফুটবলের রাজপুত্র। কিন্তু সেখানেই হত্যেদম হয়ে যায়নি কাবো ভার্দে। দাঁতে দাঁত চেপে ডিফেন্স করে যেতে থাকে। প্রাচীর হয়ে ওঠেন ভোজিনহা। সঙ্গে বিপক্ষকে ছোবল দেওয়ারও চেষ্টা চলতে থাকে। সেই রেশ ধরে ৫৯ মিনিটে কাবো ভার্দেকে সমতায় ফেরান ডেরোয় ডুয়ারটে। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিট শেষ হয় ১-১ গোলে।

আরও পড়ুনঃ নিম্নচাপ, ঘূর্ণাবর্ত, মৌসুমী অক্ষরেখা… ত্রিফলা অ্যাটাক; দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের আশঙ্কা

অতিরিক্ত সময়ের নাটক

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেই বুলেট শটে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্টিনেস। তখন মনে হয়েছিল যে কাবো ভার্দে আর পারবে না। কিন্তু ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র তো কারও কিছু মনে হওয়ার ভর করে বিশ্বকাপে খেলছিল না। আর সেই বিশ্বাস থেকেই অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের একেবারে শেষলগ্নে অবিশ্বাস্য গোল করে কাবো ভার্দেকে সমতায় ফেরান কাবরাল। যে গোলটা এবার বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্ভবত সেরা গোল হয়ে থাকল।

অমর হয়ে থাকল কাবো ভার্দের মহাকাব্য

কিন্তু আট মিনিট পরেই আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে কাবো ভার্দে। অনেক চেষ্টা করেও যে গোলটা আর পরিশোধ করতে পারেনি। তাতে কী? কাবো ভার্দে তো ফুটবল বিশ্বকে জিতে নিয়েছে, কাবো ভার্দে জিতে নিয়েছে মন, কাবো ভার্দে জন্ম দিয়েছে মহাকাব্যের। যে মহাকাব্য কখনও কখনও জয়ীদের উল্লাসের থেকে বেশিও করে পরাজিতদের অশ্রুজলকে অমর করে রাখে। ঠিক যেমনটা অমর হয়ে থাকল কাবো ভার্দের মহাকাব্য।

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন