সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ায় একসময় জোড়া তাপ্পি দিয়ে নীল-সাদা রং করে দিয়েছিল তৃণমূল (TMC) সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মতো বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার দু মাসের মধ্য়েই সেই সেতু নিয়ে বড় উদ্যোগ নেওয়া হল। এখন সেতুর যা অবস্থা, তা উদ্বেগজনক। যাত্রীবাহী বাস গেলেও সেতু কাঁপে। তাই আরামবাগবাসী চেয়েছিল, অবিলম্বে সেতুর হাল ফিরুক। তাই দ্বিতীয় সেতু তৈরি করার জন্য ৩৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করল সরকার।
আরও পড়ুনঃ ৩,০০০ টাকা ঘিরে নতুন সতর্কবার্তা! অযোগ্য হলে ফেরত দিতে হতে পারে ভাতা
আরামবাগের গুরুত্বপূর্ণ এই ‘রামকৃষ্ণ সেতু’র বিকল্প হিসেবে একটি নতুন চার লেনের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা আরামবাগে গিয়ে সম্ভাব্য নতুন সেতু নির্মাণের জায়গাও পরিদর্শন করে গিয়েছেন। জমির মাপজোকও করা হয়ে গিয়েছে। পরিদর্শনের সময় আরামবাগ মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।
জানা গিয়েছে, নতুন ফোর লেন সেতুটি আরামবাগ থেকে কালীপুরের দিকে যাওয়ার রাস্তায় ডান পাশে নির্মিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের বর্ষার পরই নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে। সেতু নির্মাণ সম্পূর্ণ হতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।
বর্তমান রামকৃষ্ণ সেতুর অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগজনক। প্রায় এক বছর আগে সেতুর এক পাশের গার্ডওয়ালের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই বিকল্প সেতুর দাবি আরও জোরাল হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর আরামবাগ মহকুমার চার জন বিজেপি বিধায়ক বিষয়টি নিয়ে উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।
রামকৃষ্ণ সেতু আরামবাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই সেতুর উপর দিয়েই দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন হয়। পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যদিনের যাতায়াতের জন্যও এই সেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সেতুর উপর দিয়ে যেতে পারে না বলে মালপত্র ভর্তি ট্রাক বা বড় গাড়িকে ৪০ কিলোমিটার অতিরিক্ত রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। নতুন সেতু তৈরি হলে সে ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে।
নতুন ফোর লেন সেতু নির্মিত হলে যান চলাচল আরও সহজ হবে এবং এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২০২৫-এর ১০ অগস্ট মাঝরাতে দক্ষিণবঙ্গের আরামবাগের সঙ্গে যোগাযোগকারী দ্বারকেশ্বর নদের ওপর রামকৃষ্ণ সেতুর একাংশ ভেঙে গিয়েছিল। বেশ কয়েক মাস যাত্রীবাহী বাস সহ সব ধরনের পণ্যবাহী গাড়ি বন্ধ ছিল। আরামবাগ ব্যবসায়ী সমিতি সহ বাস সংগঠনগুলিও ধর্মঘট ডেকেছিল। বাস পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল।
তৎকালীন তৃণমূল সরকার কোনওরকমে জোড়া তাপ্পি দিয়ে রামকৃষ্ণ সেতু নীল-সাদা রং করে হাইড বার বসিয়ে চালু করে দিয়েছিল ভোটের কয়েক মাস আগেই। তবে এখনও সেই ব্রিজ দুলছে। যাত্রীবাহী বাস অথবা যে কোনও গাড়ি যাতায়াত করলেই ব্রিজ কাঁপে।
আরামবাগ মহকুমায় চারজন বিজেপি বিধায়ককে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। এরপরই তৎকালীন চার বিধায়ক এলাকার মানুষজনদের কথা দিয়েছিলেন নতুন সরকার ক্ষমতায় এলেই নতুন ব্রিজ তৈরি হবে। প্রতিশ্রুতি মতো নতুন সরকার আসতেই চার লেনের দ্বিতীয় ব্রিজের জন্য ৩৯৫ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে। এতেই খুশি এলাকাবাসী।


