ইরান তাঁকে হত্যা করতে পারে, আগেই এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার আরও একধাপ এগিয়ে তাঁর ঘোষণা, তাঁর হত্যা হলে ইরানে যেন বোমাবর্ষণ করা হয়। আর সে নির্দেশ নাকি ইতিমধ্যেই তিনি সামরিক বাহিনীকে দিয়ে রেখেছেন।
ইরান যদি তাঁকে হত্যা করতে সফল হয়, তবে তেহরানের উপর ভয়ঙ্কর সামরিক হামলা হবে, এমন নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এমনটা ঘটলে ইরানের উপর এমন মাত্রায় বোমাবর্ষণ করা হবে যা তারা আগে কখনও দেখেনি।
আরও পড়ুনঃ সুপার সাব ম্যাজিকে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিতে স্পেন
‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান বহু বছর ধরেই আমাকে মৃত দেখতে চায়।’ তবে একই সঙ্গে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, তেহরানের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে কোনও আসন্ন গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্রের নতুন গোয়েন্দা তথ্য নেই।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই তাদের হিটলিস্টে আছি। আমরা এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘শুধু একটি বিষয়, আমি নির্দেশ দিয়ে রেখেছি যে যদি (আমার) কোনও ক্ষতি হয়, তবে আক্ষরিক অর্থেই তাদের উপর এমন মাত্রায় বোমাবর্ষণ করা হোক যা তারা এর আগে কখনও দেখেনি।’
সম্প্রতি ইজরায়েল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ইরানের একটি পরিকল্পিত গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্রের গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে ট্রাম্প নতুন কোনও হুমকির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘না, না। ইজরায়েল নতুন কিছুই পায়নি। না, না। আমি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের এক নম্বর তালিকায় আছি, জীবন এমনই।’
নিজের স্বভাবসুলভ হালকা মেজাজে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি আপনারা আমাকে মিস করবেন।’
আরও পড়ুনঃ অবশেষে মমতা-স্মৃতি রেখে, চলেই গেলেন গেলেন কেষ্ট
এর আগে আঙ্কারায় ন্যাটো (NATO) শীর্ষ সম্মেলনের পর করা মন্তব্যের সঙ্গেও ট্রাম্পের এই বয়ানের মিল রয়েছে। সেখানে তিনি নিজেকে ইরানের ‘এক নম্বর টার্গেট’ হিসেবে দাবি করে তেহরানের বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি তাদের এক নম্বর টার্গেট। তাদের আগের নেতারা চলে গিয়েছেন। এখন নতুন একদল নেতা এসেছে। ওরাও চলে যেতে পারে। আর আপনারা জানেন তো, আমিও চলে যেতে পারি, কারণ আমিই তাদের এক নম্বর টার্গেট।’ একই সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য, ইরানকে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তবে তেহরানের সঙ্গে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেবে না এবং ভবিষ্যতের যে কোনও সংঘর্ষ খুবই সংক্ষিপ্ত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


