দিল্লির ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলাকালীন ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখছে বলে দিল্লি পুলিশের নজরে এসেছে। কনট প্লেস ও যন্ত্র মন্তরের মতো এলাকায় নেট বন্ধ হলেও ‘ব্লুটুথ লো এনার্জি’ (BLE) মেশ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আশপাশের স্মার্টফোনে বার্তা আদানপ্রদান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ মার্কিন দূতাবাসের আগাম বিক্ষোভ সতর্কতা ঘিরে বিতর্ক, দিল্লির সিজেপি আন্দোলনের ব্যাপারে এত নির্দিষ্ট তথ্য পেল কীভাবে?
প্রযুক্তির ব্যবহার ও পুলিশের চ্যালেঞ্জ
- BLE প্রযুক্তি দিয়ে ইন্টারনেট বা সেলুলার নেটওয়ার্ক ছাড়াই ডিভাইসগুলোর মধ্যে চেইন বা শৃঙ্খলের মতো বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে।
- এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম নজরদারি করা পুলিশের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
- পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ধরনের অ্যাপ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে তথ্য চাওয়ার জন্য চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
- দিল্লি পুলিশ অ্যান্টি-টেরর ইউনিট সহ বিভিন্ন শাখা এই ঘটনা ও প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখছে।
- বিক্ষোভকারীদের শনাক্তকরণে ইন্টারনেট প্রোটোকল ডিভাইস রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
- প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিক্ষোভকারীদের বড় অংশ দিল্লির বাইরে থেকে এসেছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর গোয়েন্দা সংস্থা আগাম তথ্য দেয়নি।
আরও পড়ুনঃ আন্দোলনের নামে জঙ্গিপনা; বন্ধ ইন্টারনেট, নতুন করে উত্তপ্ত নয়াদিল্লি
আন্তর্জাতিক ও অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা
- ২০১৯ সালের হংকং গণতন্ত্র আন্দোলনসহ নেপাল, ইরান, উগান্ডা, মাদাগাস্কার, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়ার বিক্ষোভে অনুরূপ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধের পরও বিক্ষোভকারীদের যোগাযোগের এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে পুলিশ ও প্রশাসনের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে। তদন্ত ও নজরদারি জোরদার হলেও, প্রযুক্তির এই ব্যবহার সামাজিক আন্দোলনের আধুনিক রূপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।


