নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার দিল্লির সংসদ চত্বর উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে পরিণত হয়। বিরোধী সাংসদরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখান। পাল্টা বিক্ষোভে অংশ নেন এনডিএর সাংসদরা, যারা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে দেশের যুবসমাজকে প্ররোচিত করার অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুনঃ ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে..,’ মোদীর পাল্টা জবাব আরশোলা’দের
বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি
- বিরোধী পক্ষ থেকে শামিল ছিলেন রাহুল গান্ধী, সনিয়া গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এবং তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এনসিপিআই-এ মিশে থাকা ২০ জন তৃণমূল সাংসদকে সরাসরি ‘বিজেপির সঙ্গে সংসদের ২০ গদ্দার’ হিসেবে উল্লেখ করে কটাক্ষ করেন।
- বিরোধী পক্ষ ‘জীবন বাঁচাও, নিট বন্ধ করো’ স্লোগান দেয়; এনডিএর পক্ষ থেকে ‘যুবসমাজকে ঘাঁটিও না, রাহুল গান্ধী জেগে ওঠো’ স্লোগান উঠেছে।
- সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস ও বিজেপি নেতা অরুণ সিংহের মধ্যে পোস্টার ছিনতাইয়ের চেষ্টা সংঘর্ষকে আরও তীব্র করে।
- সংসদের নিরাপত্তারক্ষীরা মানববন্ধনে দুই পক্ষের মাঝে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেন।
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অভিযোগ
- বিজেপি অভিযোগ করে, সরকার সংসদে নিট বিষয়ক আলোচনা করতে রাজি, কিন্তু কংগ্রেস সময় নষ্ট করছে।
- কংগ্রেস পাল্টা দাবি করে, প্রধানমন্ত্রী বিতর্কে সরাসরি অংশ নেননি।
আরও পড়ুনঃ প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন হবে! ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদীর
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে।’
- তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন।
- তবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মোদীর পোস্ট পুনরায় শেয়ার করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে অনড় থাকে।
বিরোধী দলের দাবি
- রাহুল গান্ধী মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘আপনি দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন।’
- তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন: ধর্মেন্দ্র প্রধানের বরখাস্ত, ছাত্রদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, এবং পুলিশি হামলার দায়ীদের শাস্তি।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিক্ষোভ ও সংসদীয় রাজনীতির উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন বেশ উত্তপ্ত। প্রধানমন্ত্রী ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিলেও আন্দোলনকারীদের দাবি এখনও পূর্ণতা পায়নি।


