Friday, 24 July, 2026
24 July
HomeদেশCJP: ফাটল আন্দোলনে, আরশলার সঙ্গে মতপার্থক্য সোনম ওয়াংচুকের

CJP: ফাটল আন্দোলনে, আরশলার সঙ্গে মতপার্থক্য সোনম ওয়াংচুকের

কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পর ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত আন্দোলনের ভিতরে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলা আন্দোলনে নতুন মোড়। আন্দোলনের অন্যতম মুখ সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করলেও, আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পর ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত আন্দোলনের ভিতরে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন শেষে প্রত্যাহার

গত ২৮ জুন থেকে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। টানা ২৬ দিন অনশনের পর গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি অনশন ভাঙেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়। জানানো হয়, ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পাশাপাশি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে এবং সংসদে পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এই আশ্বাসের পর সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি ভিডিও পোস্ট করে ওয়াংচুক লেখেন, **“ক্ষুধার সমাপ্তি, এবার জবাবদিহির শুরু।”** তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।

আন্দোলনের শুরুতে ওয়াংচুক এবং সিজেপির অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। কিন্তু সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় সেই দাবি আর জায়গা পায়নি। এখান থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওয়াংচুক অনশন ভাঙার পর তাঁর পোস্ট করা ভিডিও বা বার্তা সিজেপি বা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে তাঁদের সরকারি সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ভাগ করে নেননি। এই ঘটনাও দুই পক্ষের দূরত্বের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

অন্যদিকে, সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর-মন্তরে তাদের অবস্থান-বিক্ষোভ চলবে। ফলে ওয়াংচুক আন্দোলন থেকে সরে এলেও সিজেপি নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রীয় সরকারের বড় পদক্ষেপ; সরানো হল শিক্ষা সচিব বিনীত যোশীকে

এদিকে দিল্লির যন্তর-মন্তরে এখনও হাজার হাজার আন্দোলনকারী অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবার উপরও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। বিষয়টি সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বিরোধী দলগুলি ছাত্রদের দাবির সমর্থনে সরব হয়ে সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন আনার ঘোষণা করলেও বিরোধীরা তাতে সন্তুষ্ট নয়। ককরোচ জনতা পার্টি এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, উভয়েই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকারের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হওয়া উচিত ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করে সরকারের ঘোষণাকে কটাক্ষ করেছেন।

সব মিলিয়ে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার সরকারের জন্য সাময়িক স্বস্তি এনে দিলেও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে সিজেপির পরবর্তী পদক্ষেপের উপর। ওয়াংচুক ছাড়াও আন্দোলনের ধার কতটা বজায় রাখতে পারে সংগঠনটি, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

 

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন