শ্রিজিব আচার্যঃ
সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই একটি ভুল ধারণা দেখা যায় যে, সমলিঙ্গের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া মানেই সেই ব্যক্তি সমকামী। অথচ মনস্তাত্ত্বিক ও যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সমকামিতা (Homosexuality) এবং সমলিঙ্গে যৌন আচরণ (Same-sex sexual activity)—এ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
আরও পড়ুনঃ দেখা দিতে পারে ইনফেকশন, ত্বকে বা গোপনাঙ্গে নানা সমস্যা! পুরুষদের কেমন অন্তর্বাস বেছে নেওয়া উচিত?
সমকামিতা (Homosexuality): এটি মূলত একটি মানুষের স্থায়ী যৌন অভিমুখিতা (Sexual Orientation)। যখন একজন ব্যক্তি মানসিক, আবেগাচ্ছন্ন এবং শারীরিক দিক থেকে স্থায়ীভাবে কেবল নিজের সমলিঙ্গের মানুষের প্রতি টান অনুভব করেন, তখন তাকে সমকামিতা বলা হয়। এটি ব্যক্তির একটি সহজাত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচয়।
সমলিঙ্গে যৌন সম্পর্ক (Same-sex sexual activity): সমকামী না হয়েও যে কেউ নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি বা কারণে সমলিঙ্গের মানুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছেন:
-
পরিস্থিতিগত বাধ্যবাধকতা: দীর্ঘকাল বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সংস্পর্শে না থাকা (যেমন—কারাগার, সামরিক ক্যাম্প বা হোস্টেল জীবন)।
-
কৌতূহল বা নতুন অভিজ্ঞতা: কেবল অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্দেশ্যে বা শারীরিক চাহিদা মেটাতে।
-
সামাজিক বা আর্থিক প্রভাব: অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক বা আর্থিক চাপের কারণে।
-
সাময়িক শারীরিক প্রয়োজন: কেবল মুহূর্তের চাহিদাপূরণের জন্য।
আরও পড়ুনঃ লজ্জার কিছু নেই; শরীরকে বুঝি, লজ্জা নয় — সচেতনতা হোক পথ
অতএব, সমলিঙ্গে সেক্সে লিপ্ত হওয়া প্রতিটি মানুষই সমকামী—এই সমীকরণটি বৈজ্ঞানিক বা মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে সঠিক নয়। সমকামিতা যেখানে মানুষের অভ্যন্তরীণ ও স্থায়ী পরিচয়, সেখানে সমলিঙ্গে যৌনতা কেবল একটি পরিস্থিতিভিত্তিক শারীরিক আচরণ হতে পারে।
ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও যৌন আচরণের সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো বুঝে সমাজকে সংস্কারমুক্ত করা এবং মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ ও পরিচয়কে সম্মান জানানোই এখনকার সময়ের মূল দাবি।


