কলকাতা: রাজ্যে বড়সড় নাশকতা চালিয়ে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে বহিরাগত ও স্থানীয় পেশাদার অপরাধীদের ভাড়া করার বিপজ্জনক ছক কষেছিল জইশ-ই-মোহাম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডল। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের এক ‘হাই প্রোফাইল টার্গেট’-কে খুন বা অপহরণের উদ্দেশ্যে জেলবন্দি এক কুখ্যাত গ্যাংস্টারকে ‘সুপারি’ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল হামিম। এই নিয়ে পাকিস্তানে থাকা তার হ্যান্ডলারদের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিল সে।
এদিকে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে হামিম মণ্ডল ও তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে টানা জেরা করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)।
পাক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল গ্যাংস্টারের বায়োডাটা
এসটিএফ ও গোয়েন্দা সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে:
-
শাহজ়াদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সাথে যোগ: পাকিস্তানের শাহজ়াদ ভাট্টি গোষ্ঠীর কাছে জেলবন্দি ওই গ্যাংস্টারের সম্পূর্ণ প্রোফাইল বা বায়োডাটা পাঠিয়েছিল হামিম। ওই গ্যাংস্টার একাধিক রাজ্যের দুষ্কৃতীদের নিয়ে এক আন্তঃরাজ্য অপরাধচक्र পরিচালনা করে।
-
সরাসরি যোগাযোগ ও হাওয়ালা লেনদেন: অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখতে হামিমকে মাঝখানে না রেখে দুবাই থেকে আবিদ জাট নামের এক হ্যান্ডলারের সরাসরি ওই গ্যাংস্টারের সাথে কথা বলার কথা ছিল। সুপারি-র মোটা টাকা লেনদেনের পরিকল্পনা ছিল হাওয়ালা মারফত।
-
পাঞ্জাবের ধাঁচে ‘মোডাস অপারেন্ডি’: নিজেদের আড়ালে রেখে স্থানীয় ও ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীদের মাধ্যমে কাজ হাসিল করাই ভাট্টি গোষ্ঠীর মূল কৌশল (Modus Operandi)। এর আগে পাঞ্জাবেও একইভাবে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এই গোষ্ঠী।
মোবাইল চ্যাটে মিলল শীর্ষ ব্যক্তিত্বের গতিবিধির তথ্য
হামিমের মোবাইল ফোন থেকে এনক্রিপ্টেড চ্যাট হিস্ট্রি উদ্ধার করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, রাজ্যের এক অতীব প্রভাবশালী শীর্ষ ব্যক্তির গতিবিধি ও নিরাপত্তার খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।
তবে বাস্তবে জেলের ভেতরে থাকা ওই গ্যাংস্টারের কাছে শেষ পর্যন্ত বরাতের প্রস্তাব পৌঁছেছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে জেলে গিয়ে ওই অপরাধীকে জেরা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসটিএফ।
আরও পড়ুনঃ হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে গ্রেফতার আদিত্য; পুর প্রতিমন্ত্রীর ছেলেকে হানিট্র্যাপে ফেলার পরিকল্পনা
নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন ও সমান্তরাল নেটওয়ার্কের আশঙ্কা
-
ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি: রাজ্যের আর কোন কোন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা ভাট্টি গোষ্ঠীর নিশানায় ছিলেন, সেই তালিকা তৈরি করছেন গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কয়েক গুণ আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।
-
সমান্তরাল নেটওয়ার্কের ভয়: গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, কেবল হামিম নয়, রাজ্যে অস্থিরতা ছড়াতে অন্য কোনো এজেন্টকে দিয়ে সমান্তরাল আরও একটি গোপন জঙ্গি মডিউল বা নেটওয়ার্ক চালনা করছে না তো ভাট্টি গোষ্ঠী—সে বিষয়টিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


