ঢাকা / নয়াদিল্লি:
গণঅভ্যুত্থানের পর ভারত ছেড়ে আশ্রয়ে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চুয়াল ভাষণ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছে। দিল্লিতে ‘ফরেন করেসপন্ডেটস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’-র অনুষ্ঠানে তাঁর ভার্চুয়াল ভাষণ সম্প্রচার না করার জন্য দেশের সমস্ত গণমাধ্যম ও সংবাদপত্রের প্রতি কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুনঃ উপমহাদেশে সাম্যবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ; জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য মুজাফফর আহমেদকে (কাকাবাবু)
বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নির্দেশিকা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রকের যৌথ উদ্বেগের পর দেশের মিডিয়া হাউজগুলির জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়:
-
‘দণ্ডিত আসামির বক্তব্য সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা’: নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক একাধিক মামলায় দণ্ডিত ও পলাতক আসামির বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা দেশের আইনি ও নিরাপত্তার পরিপন্থী।
-
সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির সুপারিশ: বাংলাদেশের ন্যাশনাল সাইবার সেফটি বা সুরক্ষা এজেন্সির পর্যালোচনার পর জানানো হয়, এ ধরনের বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে।
-
গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ: সরকারের লক্ষ্য করা কিছু সংবাদমাধ্যম এখনও শেখ হাসিনার বক্তব্য বা ভিডিও প্রচার করছে—যা বন্ধ করতে কড়া অনুরোধ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভারতের ইতিহাসে সফল গুজব! ২০০ বছর নয়, ১২৯ বছর ইংরেজরা ভারত শাসন করেছে
নয়াদিল্লির কাছে ঢাকার জবাবদিহি ও কূটনৈতিক বার্তা
দিল্লির মাটি ব্যবহার করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে ইতোমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
-
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সোজা কথায় জানান, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো পলাতক আসামি রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে বা বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করলে তা ঢাকা-নয়াদিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
-
নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি: ভারতের নীতি অনুযায়ী কোনো বিদেশি নাগরিকের সে দেশের মাটি থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি নেই। ফলে কীভাবে বা কোন পরিসরে এই ধরনের সংবাদ সম্মেলনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
এই প্রেক্ষাপটে, দেশের ভেতরে যাতে কোনোভাবেই শেখ হাসিনার বার্তা বা কণ্ঠস্বর ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও টেলিকম পরিষেবাগুলোতেও বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।


