ঢাকা:
বাংলাদেশের একটি মন্দিরে সমকামী বিবাহের খবর প্রকাশিত হতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সামাজিক উত্তেজনা। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এক মুসলিম যুবকের রূপান্তরকামী হয়ে হিন্দু যুবককে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশ ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের সামাজিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত এবং তথাকথিত ‘পশ্চিমী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ’ আখ্যা দিয়ে সরকারকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে সুশীল সমাজ ও পেশাজীবীদের একাংশ।
আরও পড়ুনঃ হাসিনার ভয়ে বাংলাদেশ সরকার! শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভাষণ সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের তারেক সরকারের
১,২৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিকের যৌথ বিবৃতি ও হুঁশিয়ারি
ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি-সহ ১,২৩০ জন নাগরিক যৌথভাবে একটি প্রতিবাদপত্র প্রকাশ করেছেন।
-
আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা: বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ৯২ শতাংশ মানুষ মুসলিম এবং তারা ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রকাশ্যে সমকামী বিয়ের বিষয়ে সরকার যদি অবিলম্বে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে সাধারণ ‘শান্তিপ্রিয়’ মানুষ অসন্তুষ্ট হয়ে উঠতে পারে—যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটাতে পারে।
-
আইনি ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি: যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সমকামিতা একটি শাস্তিযোগ্য ও নিষিদ্ধ অপরাধ। এছাড়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিরিখে লিঙ্গ পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পুরুষকে পূর্ণাঙ্গ নারী বা বিপরীতটি করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করা হয় এতে।
ধর্মীয় নেতাদের ক্ষোভ ও হিন্দুদের নিশানা করার অভিযোগ
সামাজিক মাধ্যম ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট ঘিরে বিতর্ক আরও উসকে উঠেছে:
-
সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন: ঢাকার এক প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ফেসবুক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসলাম ধর্মাবলম্বী সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে এ জাতীয় ঘটনা ঘটে যাওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন নির্বিকার। যদি এই জাতীয় কোনো ঘটনা বা ‘আইনবিরোধী কাজ’ মসজিদে সংঘটিত হতো, তবে পরিস্থিতি বহুদূর গড়াচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
-
উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ: ধর্মগুরুদের একাংশের বক্তব্য থেকে উসকানিমূলক মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে, যা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁরা সামাজিক মাধ্যমে দাবি করছেন, দেশে পশ্চিমী ‘নোংরামি’ আমদানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর পেছনে নির্দিষ্ট কুচক্রী গোষ্ঠী কাজ করছে।
আরও পড়ুনঃ উপমহাদেশে সাম্যবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ; জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য মুজাফফর আহমেদকে (কাকাবাবু)
বর্তমান সামাজিক ও আইনি প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে সমকামী বিয়ে বা সমকামী সম্পর্ক নিয়ে আইনি স্বীকৃতি নেই। ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী এ ধরণের সম্পর্ক বেআইনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধারে ধর্মীয় অনুভূতি, আইনি বিধিমালা এবং সামাজিক পরিকাঠামো নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে, যা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।


