রাজ্যে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত তিন মাসে বাংলার ব্যবসার পরিবেশে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তোলাবাজি, কাটমানি, চাঁদাবাজির মতো সমস্যার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যকে বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও ব্যবসাবান্ধব করে তোলা হয়েছে। বুধবার মিলন মেলা প্রাঙ্গনে বস্ত্র শিল্প সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বাংলাকে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা যেভাবে রাজ্যের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তার জন্য তিনি তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তাঁর কথায়, সফল ব্যবসায়ীরাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক এবং রাষ্ট্রবাদী। ডবল ইঞ্জিন সরকারের জোরে বাংলায় এখন উন্নয়নের নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ তিন মাসেই বদলে গেল জীবনযাপন? তোলাবাজি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মাত্র তিন মাসেই বাংলার শিল্প ও ব্যবসার আবহাওয়া বদলাতে শুরু করেছে। তাঁর আশা, অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার নতুন ব্যবসা তৈরি হবে। অতীতের সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আগে গুজরাটের সুরাটের নাম শুনলেই ‘বহিরাগত’ তকমা দেওয়া হত। অথচ দেশের এক রাজ্যের উন্নয়ন অন্য রাজ্যেরও উপকার করে। কলকাতার উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনই গুজরাটের উন্নয়নও দেশের স্বার্থেই জরুরি। এই প্রসঙ্গে তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, বাংলায় এখনও চাকরির অভাব রয়েছে। কিন্তু রাজ্যের মানুষের দক্ষতার কোনও অভাব নেই। কলকাতাকে ‘সিটি অব জয়’ এবং দেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্ভাবনাকেই কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প গড়ে তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নিজে বাংলার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদেরও রাজ্যে এসে উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই উদ্যোগেরই ইতিবাচক ফল মিলতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ নাগরিকত্বের প্রশ্নে ২০ লক্ষ মানুষের সরকারি অনুদান অনিশ্চিত? তথ্য যাচাই ঘিরে বাড়ছে জল্পনা
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যে আর কোনওভাবেই তোলাবাজি বা গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না। তিনি জানান, সম্প্রতি কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, এখন অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে। যদিও কোথাও কোথাও পার্কিং সংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। সেই বিষয়টিও প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
বিশেষ করে টেক্সটাইল শিল্পের প্রসারে মুখ্যমন্ত্রী বড় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, টেক্সটাইল হাব গড়ে তুলতে প্রয়োজন হলে আইন পরিবর্তন করতেও সরকার প্রস্তুত। ব্যবসায়ীদের যা যা প্রয়োজন, সরকার তা পূরণে উদ্যোগী হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বাংলার চা শিল্প এবং বস্ত্র শিল্প নিয়ে বিশেষভাবে ভাবছেন। আগামী ২৪ থেকে ২৮ অগস্ট তাঁর রাজ্য সফরের কথাও জানান শুভেন্দু।
শিল্প বিনিয়োগের সাম্প্রতিক উদাহরণ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যেই একাধিক সংস্থা বাংলায় বিনিয়োগ শুরু করেছে। লাক্স কোজি এবং আমূলের মতো সংস্থার প্রকল্পের ভূমিপুজো হয়েছে। আমূল রাজ্যে মিষ্টি দই ও আইসক্রিম উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, নতুন শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলা আবার দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে।


