দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনা মানেই কারিগরি ক্ষেত্র, কারখানা, গ্যারেজ থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ চত্বরে এক আনন্দের আবাহন। বই-খাতা এবং ল্যাবের দৈনন্দিন ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে মেতে ওঠার দিন। তবে আর পাঁচটা ধর্মীয় উৎসবের মতো বিশ্বকর্মা পুজোর তারিখ চন্দ্রতিথি মেনে ঘনঘন পরিবর্তিত হয় না; প্রতি বছর সূর্যসিদ্ধান্তের গণনায় ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিতেই এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৬ সালের বিশ্বকর্মা পুজোর পঞ্জিকামত তথ্য
বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা (১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) অনুযায়ী ২০২৬ সালের পুজো সংক্রান্ত সময়সূচি:
-
তারিখ (ইংরেজি): ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার।
-
তারিখ (বাংলা): ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (ভাদ্র সংক্রান্তি)।
ভাদ্র সংক্রান্তির অন্যান্য আরাধনা ও উৎসব
পঞ্জিকা অনুসারে এই বিশেষ দিনটিতে বিশ্বকর্মা পুজোর পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে আরও কয়েকটি পুজো ও লোকউৎসব পালিত হবে:
-
দেবী মনসার ভাসান: শ্রীশ্রীমনসাদেবী ও অষ্টনাগ পুজোর সমাপ্তি ঘটিয়ে এই দিনেই ভক্তরা মা মনসার নিরঞ্জন বা ভাসান সম্পাদন করবেন।
-
ভদ্রাবতী পুজো: এই তিথিতেই সানন্দে সমাপ্ত হবে ঐতিহ্যবাহী ভদ্রাবতী পুজো।
-
দেউলিয়াগ্রামের মেলা: পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের নিকটবর্তী দেউলিয়াগ্রামে শ্রীশ্রীধর্মরাজ পুজো অনুষ্ঠিত হবে এবং এই উপলক্ষে টানা ৭ দিনব্যাপী মেলা বসবে।
-
পলাশবনীর লোকউৎসব: বাঁকুড়া জেলার পলাশবনী গ্রামে পরম শ্রদ্ধায় উদযাপিত হবে দেবী মনসার পুজো ও মেলা।
আরও পড়ুনঃ তারাপীঠের ছায়া এবার কলকাতায়! সাতসকালে হোটেলে আগুন লেগে ৯ জনের মৃত্যু
আরাধনার মূল তাৎপর্য
বিশ্বকর্মা পুজো কেবল একটি আচার নয়, বরং নিজের কর্মক্ষেত্র, যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনশীল উপকরণকে ভালোবাসার অনন্য উৎসব। গাড়ি, সাইকেল থেকে শুরু করে বড় বড় কলকারখানার সরঞ্জামের যত্ন নেওয়া এবং শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করাই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য। এর সাথে থাকে সাউন্ড বক্সে গান, প্রসাদ বিতরণ এবং শরতের নীল আকাশে রঙিন ঘুড়ি ওড়ানোর মাতামাতি।


