বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা:
মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও মার্কুইস স্ট্রিট সংলগ্ন তথাকথিত ‘হোটেলপাড়া’র ছবিতে খুব একটা বদল আসেনি। বৃহস্পতিবার এলাকা ঘুরে চোখে পড়ল গাফিলতি ও উদাসীনতার এক চরম চিত্র। ঘটনার পর দমকলের কড়া মনোভাব ও শো-কজ় নোটিসের মুখে পড়ে কিছু হোটেল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর তোড়জোড় শুরু করলেও, সার্বিকভাবে সুরক্ষা সচেতনতার বড়ই অভাব।
আরও পড়ুনঃ C/O মির্জ়া গালিব স্ট্রিট অগ্নিকাণ্ড; ধৃত ১, শো কজ় ৯টি হোটেলকে, জবাব না দিলে বন্ধের হুঁশিয়ারি
হোটেলপাড়ার বর্তমান ছবি ও প্রশাসনিক তৎপরতা
-
দমকলের নোটিস ও পরিদর্শন: ‘শিখা ইন’-সহ এলাকার ৯টি হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁকে শো-কজ় নোটিস পাঠিয়েছে দমকল দফতর। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব না মিললে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার অন্তত ১০টি হোটেল ঘুরে পরিদর্শকরা একাধিক অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেন।
-
রাতারাতি পরিকাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা: নোটিস মেলার পর কিছু হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ‘হোস পাইপ’ পরিষ্কার এবং ‘ইমার্জেন্সি এগ্জ়িট’ (জরুরি নির্গমণ পথ) পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। কোনো কোনো হোটেল আবার রাতারাতি নতুন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কিনে আনছে।
-
মালিক পলাতক, ধৃত ১: ঘটনার মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্র এখনও গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। তবে হোটেলটি লিজ় বা ইজারা নেওয়া আবু জাফর নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে।
আরও পড়ুনঃ ভেস্তে গেল ডাকাতির ছক; রানিগঞ্জে গভীর রাতে পুলিশের সাহসিক অভিযান
বাংলাদেশি পর্যটক ও বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
-
আতঙ্কের মাঝেও চেক-ইন: অগ্নিকাণ্ডের খবর জানা সত্ত্বেও প্রতিদিনের মতো বাংলাদেশ থেকে আসা বহু রোগী ও পর্যটক মার্কুইস স্ট্রিটের হোটেলগুলিতে উঠছেন। ঢাকার বাসিন্দা সুলেমান হুসেন বা ইয়াসিন আহমেদের মতো পর্যটকরা জানান, ভয় থাকলেও কাজের প্রয়োজনে তাঁদের আসতেই হয়েছে। তবে অনেকে নিজের উদ্যোগেই হোটেলে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা দেখে নিচ্ছেন।
-
গৃহহীন নির্দোষ বাসিন্দা: অগ্নিকাণ্ডের ঘটে যাওয়া ভবনের পাঁচতলার বাসিন্দা মিনা মান্দোয়ানিকে সুরক্ষার স্বার্থে এক ঘণ্টার মধ্যে ফ্ল্যাট খালি করার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। বাবা-মা হারা মিনার বুধবার রাত কেটেছে শিয়ালদহ স্টেশনে। ফুটপাথে বসে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি প্রশাসনিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন।
অগ্নিসুরক্ষা বিধিতে বিস্তর খামতি থাকা সত্ত্বেও ব্যবসা স্বাভাবিক রাখতেই তৎপর হোটেল মালিকদের একাংশ, যার ফলে অগ্নিনির্বাপক তৎপরতার স্থায়িত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন থেকে যাচ্ছে।


