কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
পারিবারিক কলহ ও নেশার ঘোর থেকে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করার পর, বাঁচাতে আসা নিজের মাকেও আশঙ্কাজনকভাবে জখম করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। এরপর নিজেই কীটনাশক খেয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন অভিযুক্ত। রবিবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধূপগুড়ি ব্লকের বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেমটিয়া এলাকায়।
আরও পড়ুনঃ ১৯টি রবীন্দ্র-গ্রন্থ আটকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার নামে, আইনি প্যাঁচে কর্মীরা
ঘটনার বিবরণ ও নেপথ্যের কারণ
-
নেশার আসক্তি ও বিবাদ: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধূপগুড়ির বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে প্রায় তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছিল রুকসানা বেগমের। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান/পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক নেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়শই স্ত্রীর ওপর অত্যাচার চালানো ও প্রতিবেশীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
-
সকালের হামলা: রবিবার সকাল ৬টা নাগাদ দম্পতির মধ্যে নতুন করে পারিবারিক বচসা শুরু হয়। আচমকাই জাহাঙ্গীর ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্ত্রী রুকসানা বেগমের ওপর চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রুকসানার।
-
মাকে কোপ ও আত্মসমর্পণ: বধূকে বাঁচাতে জাহাঙ্গীরের মা ছুটে এলে তাঁকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন জাহাঙ্গীর। শাশুড়ির পায়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। এরপর অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর নিজেই বিষাক্ত কীটনাশক পান করে রক্তমাখা অস্ত্র হাতে ধূপগুড়ি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
আরও পড়ুনঃ বামেরা দূর অস্ত; শুরুতেই ঝড়ের মুখে শুভেন্দু সরকার; প্রারম্ভিক চ্যালেঞ্জ কি দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের ইঙ্গিত?
পুলিশি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার পরেই ধূপগুড়ি থানার পুলিশ দ্রুত এলাকা পরিদর্শনে যায় এবং মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাহাঙ্গীরের মাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষপান করায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরকেও পুলিশি হেফাজতে রেখে চিকিৎসার পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো পুরনো শত্রুতা বা কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ।


