কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
মালদা জেলার ইংরেজবাজার পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কৃষ্ণপল্লী এলাকায় নতুন একটি দুর্গাপুজো আয়োজন করাকে কেন্দ্র করে দুই মহিলার গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার রাতে ঘটনার সময় ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে বচসা চরম আকার ধারণ করে। উভয় পক্ষই পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ হাতে মাত্র দেড় মাস; শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পুজো কমিটিগুলোর বৈঠক
ঘটনার বিবরণ ও পাল্টা অভিযোগ
-
বৈঠকে অশান্তি: উত্তর কৃষ্ণপল্লীর গোঁসাই মাঠে পাড়ার মহিলারা একজোট হয়ে নতুন দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে রাত ৯টা নাগাদ এক সভার আয়োজন করেন। অভিযোগ, সেই মিটিং চলাকালীন স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর কৃষ্ণ নাথ ও তাঁর সমর্থকেরা সেখানে হাজির হলে অশান্তির সূত্রপাত ঘটে।
-
মারধরের অভিযোগ: নতুন পুজো কমিটির কর্মকর্তা মলি দাস ও দেবী মণ্ডলের অভিযোগ, পাড়ায় আলো ও উৎসবের আবাহন আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাউন্সিলরের অনুগামীরা পুজো বন্ধের হুমকি দেয় এবং প্রতিবাদ করলে মহিলাদের মারধর ও চুলোচুলি শুরু হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

-
কাউন্সিলরের প্রতিক্রিয়া: বিজেপি কাউন্সিলর কৃষ্ণ নাথ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ওই ওয়ার্ডে ইতিমধ্যেই ৭টি পুজো হয় এবং নতুন পুজো হলে বাসিন্দাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, সিপিএম ঘনিষ্ঠ কিছু মহিলা এলাকাকে উত্তপ্ত করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
-
সিপিএমের প্রতিবাদ: বিজেপির এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কুরুচিকর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য দেবজ্যোতি সিনহা।
আরও পড়ুনঃ এবার রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিতে চলেছেন মমতা? বিদ্রোহের আবহে বড় বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমোর
আইনি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার বিবরণ নিয়ে স্থানীয় মহিলারা ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তা প্রথমে গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেছেন নতুন পুজো কমিটির সদস্যরা। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপ না পাওয়া গেলে এই বিষয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ মহিলারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।


