বিভিন্ন পাড়ার ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার রক্তদান শিবির থেকে স্বল্প দামে রক্তদানের কার্ড সংগ্রহ করে, সেই কার্ড দিয়ে বিনামূল্যে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত তুলে চড়া দামে রোগীর পরিবারের কাছে বিক্রি করার এক ভয়াবহ চক্রের পর্দাফাঁস করল রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা (Anti-Corruption Branch)।
সম্প্রতি কলকাতার একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের অনিয়মের তদন্ত এবং পাঁশকুড়া থেকে এক দালাল ও ৩ জন ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানকে গ্রেফতারের পর এই দুর্নীতি কাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। রক্ত বিক্রির চক্রে এবার নাম জড়াল সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের। রক্তদাতাদের কার্ড কিনে রোগীদের মোটা টাকায় বিক্রি করা হত। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ৩ ল্যাব টেকনিশিয়ানকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হল।
দুর্নীতির মূল কৌশল ও মোডাস অপারেন্ডি
-
শিবিরের কার্ড কেনা: কোনো পাড়ায় রক্তদান শিবির হলেই সেখানে পৌঁছে যেত চক্রের দালালেরা। রক্তদান কর্মসূচির আয়োজক সংস্থা বা ক্লাবের কাছ থেকে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় রক্তদানের কার্ড (Blood Donation Cards) কিনে নেওয়া হতো।
-
ফ্রি রক্ত সংগ্রহ: কেনা সেই কার্ড ব্যবহার করে সরকারি ও বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে বিনামূল্যে রক্তের পাউচ তুলে নিত অভিযুক্তরা।
-
চড়া দামে বিক্রি: হাসপাতালে রক্তের জরুরি প্রয়োজন থাকা অসহায় রোগী পরিজনদের খুঁজে বের করে, বিনামূল্যে সংগৃহীত সেই রক্ত বিপুল টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হতো।
-
দালাল ও টেকনিশিয়ানের আঁতাঁত: অসৎ উপায়ে উপার্জিত অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিত দালাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কের ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানদের এই যৌথ চক্র।
আরও পড়ুনঃ চিনির দামে বড় পতন; প্রতি কেজি নেমে এলো ৫৫ টাকায়
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
-
গ্রেফতার ও টাকার লেনদেন: পাঁশকুড়া থেকে গ্রেফতারকৃত ল্যাব টেকনিশিয়ান ও দালালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাথমিক তদন্তেই প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার অবৈধ লেনদেনের হদিস মিলেছে।
-
নজরদারিতে বিভিন্ন ক্লাব ও ব্লাড ব্যাংক: তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এটি কেবল একটি ছোট ঘটনা নয়, এর পেছনে রাজ্যজুড়ে একটি বিশাল র্যাকেট কাজ করছে। ফলে যেসব সংস্থা বা ক্লাব থেকে সহজেই এই কার্ড হাতবদল হতো, সেগুলিকেও এখন দুর্নীতি দমন শাখার আতশিকাঁচের নিচে রাখা হয়েছে।


