বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, বাসন্তী:
জনপ্রতিনিধি মানেই সম্পত্তি বৃদ্ধির রেওয়াজ—এই প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছিলেন বাসন্তী ব্লকের চড়াবিদ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচবারের প্রাক্তন সদস্য নিতাই সরদার এবং তাঁর স্ত্রী তথা একবারের প্রাক্তন সদস্যা চপলা সরদার। অথচ রাজনীতির আঙিনায় সততার মূল্য মেটাতে গিয়ে আজ চরম নিঃস্ব ও কঙ্কালসার অবস্থা এই মধ্যবিত্ত পরিবারের। চিকিৎসার খরচ চালানো দূরের কথা, দু বেলা অন্নসংস্থানের উপায়টুকুও হারিয়ে আজ তারা চরম অনটনের মুখোমুখি।
আরও পড়ুনঃ প্রমিস করলেন; ‘খাবার নিয়ে আসছি!’ বিপর্যস্ত নেপালের পাশে সোনু সুদ
জনসেবায় জমি বিক্রি ও সততার মূল্য
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্করের দীর্ঘদিনের অত্যন্ত পরিচিত নিতাই সরদার এলাকায় তাঁর অমায়িক ব্যবহার এবং নিষ্ঠাবান কাজের জন্য সর্বজনশ্রদ্ধেয় ছিলেন। তবে রাজনীতির দীর্ঘ জীবনে পঞ্চায়েতের সদস্য থাকলেও তাঁরা নিজেদের আখের গোছাননি; বরং জনসেবা ও সংসার সামলাতে গিয়ে বসতভিটুর সামান্য জমিটুকু ছাড়া তাঁদের চাষযোগ্য সমস্ত জমিই বিক্রি করে দিতে হয়।
-
একমাত্র আয়ের উৎস: স্ত্রী চপলা সরদার সমাজকল্যাণ দপ্তরের সহায়িকা পদে কর্মরত ছিলেন। পরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অঙ্গনওয়াড়ি পদে পদোন্নতি পান। সেটাই ছিল এই পরিবারটির একমাত্র স্থায়ী আয়ের সংস্থান।
-
অনাথ সন্তানকে গ্রহণ: নিঃসন্তান এই দম্পতি দু-তিন মাস বয়সের এক অনাথ শিশুকে পরম স্নেহে সন্তানের মতো কোলে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই শিশুটি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।
চিকিৎসার দেনায় নিঃস্ব পরিবার
গত চার-পাঁচ বছর ধরে মারণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী নিতাইবাবু। চপলাদেবীও সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন। অবসরকালীন যে ৫ লক্ষ টাকা তিনি পেয়েছিলেন, তা পুরোটাই স্বামীর দীর্ঘ চিকিৎসার দেনা মেটাতে শেষ হয়ে গিয়েছে। আজ তাঁদের ঘরে না আছে নিতাইবাবুর ওষুধ কেনার টাকা, না আছে অন্নসংস্থানের সংস্থান। এই চরম দুর্দশার মধ্যেও সেই অর্ধ-পাগল ছেলেটি তাঁদের ছেড়ে যায়নি, উল্টে সংসারে আরও এক পোষ্য হিসেবে রয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অতিবৃষ্টি ও হড়পা বানের সতর্কতা; পর্যটকদের জন্য প্রশাসনের জরুরি নির্দেশিকা
চোখের জলে প্রাক্তন মন্ত্রীর মুখোমুখি
গতকাল সকালে চড়াবিদ্যার বাড়িতে এই প্রবীণ ও নিঃস্ব দম্পতির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্কর। আবেগপ্লুত সুভাষবাবু জানান, “আমাকে নিতাই চিনতে পারল, কিন্তু কথা বলার শক্তিটুকুও নেই। শুধু দু চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।”
রাজনীতিতে এমন সততার নজির যেখানে বিরল, সেখানে এই প্রবীণ দম্পতির বর্তমান দুর্বিষহ পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাও ভারাক্রান্ত। এখন তাঁদের জরুরি সরকারি বা সামাজিক সাহায্যের প্রয়োজন বলেই মনে করছেন এলাকার মানুষ।



