বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
ক্যামাক স্ট্রিটে রাজনৈতিক কার্যালয়ের বেআইনি হোর্ডিং খোলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার আরও মারাত্মক আকার ধারণ করল। সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা, পুলিশকর্মীদের মারধর এবং শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগে শেকসপিয়ার সরণি থানায় তলব করা হলো তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বেলা ১২টায় তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে শেকসপিয়ার সরণি ও কালীঘাট থানার পুলিশ যৌথভাবে অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে হাজিরার নোটিস পৌঁছে দেয়। নোটিসটি গৃহীত হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিযোগের কারণ ও পুলিশের পদক্ষেপ
ক্যামাক স্ট্রিটে হোর্ডিং খোলার সময়ে পুরসভা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মোট ৩টি আলাদা এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ২টিতেই নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের:
-
অভিযোগের ধারা: সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দান, পুলিশকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
-
সংঘাতের পটভূমি: দু’দিন আগে কোনো বৈধ নোটিস ছাড়া হোর্ডিং ভাঙার অভিযোগ তুলে পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে তীব্র ধস্তাধস্তিতে জড়ান তৃণমূলকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে উপস্থিত হন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। পরে পুলিশ ও পুরকর্মীরা ছাদের ওপর উঠে গ্যাস কাটার দিয়ে বেআইনি হোর্ডিং কেটে ফেলেন।
আরও পড়ুনঃ আপনি কি মেসির ইভেন্টে গিয়েছিলেন? টাকা ফেরাবে সরকার, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
রাজনীতি বনাম আইনি জট: অভিষেকের দাবি ও মালিকপক্ষের পাল্টা তোপ
হোর্ডিং কাণ্ডকে ঘিরে তৃণমূল ও বাড়ি মালিকের বক্তব্য একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত:
| পক্ষ | মূল বক্তব্য ও অভিযোগ |
| অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় | রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও দলের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অফিসে হামলা ও হোর্ডিং ভাঙা হয়েছে। |
| বাড়ির মালিকপক্ষ | আদালতের নির্দেশ ও মালিকের অনুমতি ছাড়া জোর করে সম্পত্তির অতিরিক্ত অংশ দখল করে রাখা হয়েছে। ২০২০ সালে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের দেবরাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে চুক্তির বাইরে গিয়ে জবরদখল করা হয়। |
বাড়ির প্রবীণ গৃহকর্ত্রী রমা দেবী গোয়েঙ্কার আইনজীবীর অভিযোগ, মালিককে অন্ধকারে রেখে গোটা বহুতলে বেআইনি বিলবোর্ড ও হোর্ডিং বসানো হয়েছিল। বারবার আপত্তি সত্ত্বেও শাসকদলের চাপে কাজ হয়নি, তাই নিরুপায় হয়ে এখন আইনি নোটিস ও আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটছে মালিকপক্ষ।
একদিকে ১ সেপ্টেম্বর থানায় তলব এবং অন্যদিকে বাড়ি মালিকের আইনি নোটিস—দুই মিলে তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।


