বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
চলতি ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে এক কঠিন কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার পরীক্ষায় মুখোমুখি হয়েছে ভারত। সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করে একটি সর্বসম্মত যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করতে চাইছে নয়াদিল্লি। তবে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মার্কিন মুদ্রা ‘ডলার’-এর আধিপত্য কমানোর প্রস্তাব—এই দুটি স্পর্শকাতর મુદ્দা ভারতের সর্বাত্মক প্রচেষ্টাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।
ভারতের সতর্ক অবস্থান ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত
আমেরিকা ও পাশ্চাত্য শক্তিগুলির সাথে সম্পর্কের সমীকরণ বজায় রেখেই ব্রিকস মঞ্চ পরিচালনা করতে আগ্রহী নয়াদিল্লি:
-
অ-পশ্চিম বিরোধী অবস্থান: ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ব্রিকসকে কোনোভাবেই আমেরিকা বা পশ্চিমাবিরোধী অক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে দেওয়া যাবে না। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-
ইরানের অনড় মনোভাব: বৈঠকে ইরান সরাসরি আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলার প্রসঙ্গ তুলে যৌথ বিবৃতিতে তার তীব্র নিন্দার দাবি জানাতে পারে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) বিরুদ্ধে নিজ ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়ার অভিযোগও তুলতে পারে তেহরান।
-
চীন ও রাশিয়ার সমর্থন: চীন ও রাশিয়া তেহরানের এই অবস্থানের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারে, যা ভারতকে আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে।
‘ডি-ডলারেলাইজেশন’ ও ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
সম্মেলনের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের নির্ভরতা কমানোর আলোচনা:
| বিষয় | কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জটিলতা |
| ডলারের আধিপত্য হ্রাস | ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির মধ্যে নিজস্ব মুদ্রায় পারস্পরিক বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথ প্রশস্ত করছে। |
| মার্কিন প্রতিক্রিয়া | মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, ডলারকে দুর্বল করার মতো পদক্ষেপ নিলে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে। |
| ভারতের দ্বন্দ্ব | ব্রিকস সম্মেলনে ডলার কমানোর নতুন কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা আমেরিকার সাথে ভারতের সংঘাত তৈরি করতে পারে। |
আরও পড়ুনঃ মাঝরাতে নিশ্চিন্তের ঘুমের মধ্যেই ভারত থেকে আফগানিস্তান জুড়ে ভূকম্পন
বিকল্প পথ: চেয়ার’স সামারি (Chair’s Summary)
যদি পশ্চিম এশিয়া সংঘাতের ভাষা ও ডলার সংক্রান্ত নীতি নিয়ে সব দেশের মধ্যে সমঝোতা না হয়, তবে যৌথ নির্দেশিকা জারি আটকে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আয়োজক ও চেয়ার (Chair) হিসেবে ভারতকে কোনো যৌথ বিবৃতির বদলে একটি একক ‘সারাংশ’ (Chair’s Summary) প্রকাশ করেই ক্ষান্ত থাকতে হতে পারে। অতীতেও ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই ধরনের নজির দেখা গিয়েছিল।
সম্মেলন থেকে শেষ পর্যন্ত কীভাবে ভারত নিজের নিরপেক্ষতা রক্ষা করে এবং সদস্য দেশগুলির মতভেদ সামলে ভারসাম্যপূর্ণ বিবৃতি তুলে ধরে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহল।


