Wednesday, 2 September, 2026
2 September
HomeদেশUN: বাস্তুচ্যুত হতে পারেন ১.৪ কোটি মানুষ; নেপালের পর কলকাতা ও মুম্বই!

UN: বাস্তুচ্যুত হতে পারেন ১.৪ কোটি মানুষ; নেপালের পর কলকাতা ও মুম্বই!

হঠাৎ ভিটেমাটি হারানোর ফলে বিপন্ন মানুষের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে তীব্র মানসিক অবসাদ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:

গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের বিপজ্জনক প্রভাব যে আর ভবিষ্যতের কোনো কাল্পনিক চিত্র নয়, বরং বাস্তবের মাটিতে কড়া নাড়ছে, সে বিষয়ে বিশ্ববাসীকে কড়া সতর্কবার্তা দিল রাষ্ট্রপুঞ্জ (United Nations)। ক্রমাগত সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির ফলে অদূর ভবিষ্যতেই চিরতরে জলের নিচে তলিয়ে যেতে পারে ভারতের দুই প্রধান মেগাসিটি—কলকাতা এবং মুম্বই। পাশাপাশি চিরতরে ভিটেমাটি হারিয়ে স্থানচ্যুত বা গৃহহীন হতে পারেন প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ।

রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রকাশিত বিশেষ রিপোর্ট—‘চ্যালেঞ্জেস রিলেটেড টু সি লেভেল রাইজ অ্যান্ড ওয়েজ অ্যান্ড অ্যাপ্রোচেস টু অ্যাড্রেস ইট’ (Challenges Related to Sea Level Rise and Ways and Approaches to Address It)-এ এই আশঙ্কাজনক তথ্য সামনে আনা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ কলকাতার ট্রাম পুনরুজ্জীবন ও পরিবহন আধুনিকীকরণে সহযোগিতা; রাজ্য পরিবহন দপ্তরে বৈঠক অস্ট্রেলিয়ার কনসাল জেনারেলের

দক্ষিণ এশিয়া বনাম উন্নত বিশ্বের বিপদের তুলনা

রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে জলস্তর বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে দুই ভিন্ন ধরণের বিপর্যয় ডেকে আনছে:

  • পশ্চিমি দেশ (মিয়ামি, নিউইয়র্ক): এখানে মূল প্রভাব পড়বে অর্থনীতি ও পরিকাঠামোয়। পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২ থেকে ৩.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

  • দক্ষিণ এশিয়া (কলকাতা, মুম্বই, ঢাকা): নিচু বদ্বীপ অঞ্চলে এই সংকট মূলত মানবিক। অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়েও বড় হয়ে উঠবে গণ-বাস্তুচ্যুতি। ভারতের কলকাতা, মুম্বই এবং বাংলাদেশের ঢাকার প্রায় ১.৪ কোটি মানুষ স্থায়ীভাবে বানের জলে গৃহহীন হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।

উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান ও মাটির অবনমন

সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও দুই মেরুর হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার দরুন বাড়ছে জলস্তর:

সময়কাল / সূচক সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির হার ও প্রভাব
২০১৪ – ২০২৩ বিশ্বে সমুদ্রের গড় জলস্তর প্রতি বছর গড়ে ৪.৭ মিলিমিটার করে বেড়েছে।
২০২৪ (রেকর্ড বৃদ্ধি) এক বছরেই জলস্তর বৃদ্ধির হার রেকর্ড ৫.৯ মিলিমিটারে পৌঁছেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যা বিশ্বের প্রায় ১০% মানুষ (৭৭ কোটি) উপকূলের এমন নিচু জায়গায় থাকেন যা ভরাকোটালের জলস্তরের চেয়ে ৫ মিটারেরও কম উঁচুতে অবস্থিত।

ভূমির অবনমন (Land Subsidence): জলস্তর বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উপকূলীয় শহরের মাটি বসে যাওয়া। এই জোড়া ফলায় দ্রুত রূপ নিচ্ছে উপকূলের ভাঙন এবং ভূগর্ভস্থ স্বাদু পানীয় জলের উৎসে সমুদ্রের নোনা জল ঢুকে তৈরি হচ্ছে পানীয় জলের তীব্র সংকট।

আরও পড়ুনঃ  ভিনগ্রহে মানুষের বসবাসের নতুন দিশা; শুভাংশু শুক্লার বাসযোগ্য স্পেস-হাবিট্যাট ‘ভীম’

জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

বাসস্থান ধ্বংসের পাশাপাশি এই সংকট মারাত্মক প্রভাব ফেলছে জনস্বাস্থ্যে:

১. পরিকাঠামো ও মহামারী: বন্যায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়ছে এবং দ্রুত ছড়াচ্ছে জলবাহিত নানা রোগ।

২. মানসিক স্বাস্থ্য: হঠাৎ ভিটেমাটি হারানোর ফলে বিপন্ন মানুষের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে তীব্র মানসিক অবসাদ।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে উপকূলীয় দেশগুলিকে জলবায়ু তহবিল (Climate Fund) গঠন এবং আইনি কাঠামো তৈরির মাধ্যমে এখনই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন