বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
দ্বাদশ শতকের অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র ও ঐতিহ্যের কেন্দ্রস্থল পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের গর্ভগৃহ এবং রত্নবেদীতে দেখা দিয়েছে এক অভূতপূর্ব সংকট। নিমকাষ্ঠের তৈরি চতুর্ধামূর্তির বিগ্রহ, তাঁদের পরিধেয় মূল্যবান পট্টবস্ত্র ও রেশমি পোশাক ইঁদুরের কামড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গর্ভগৃহ ও স্টোররুমে ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মন্দিরের সেবায়েত ও শ্রীজগন্নাথ মন্দির প্রশাসন (SJTA)। তবে মন্দিরের নিয়ম মেনে কোনো বিষ বা রাসায়নিক না প্রয়োগ করে সম্পূর্ণ প্রথাগত ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে ইঁদুর ধরার অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দার্জিলিঙে বিপর্যয়! হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল টয় ট্রেনের লোকো শেডের একাংশ! আহত সাত রেলকর্মী
রত্নবেদী ও শ্রীবিগ্রহের সুরক্ষায় জোড়া আশঙ্কা
শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের গর্ভগৃহের অন্ধকার ও আর্দ্র পরিবেশ ইঁদুরের বংশবৃদ্ধির অনুকূল ক্ষেত্র হয়ে ওঠায় এই বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছে:
-
পট্টবস্ত্র ও অলংকারের ক্ষতি: দেব-দেবীদের পরানো মূল্যবান পট্টবস্ত্র, রেশমি শাড়ি ও অলংকার রাখা ঘরগুলিতে ইঁদুর ঢুকে কাপড় কেটে নষ্ট করে দিচ্ছে।
-
বিগ্রহের গায়ে কামড়ের চিহ্ন: নিমের তৈরি মূল বিগ্রহের গায়ে ইঁদুরের আঁচড় ও কামড়ের চিহ্ন লক্ষ্য করেছেন সেবায়েতরা, যা ঐতিহাসিক মূর্তির স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গঙ্গা ও ফুলহরের গ্রাসে স্কুল ভবন; মালদার ৯টি প্রাথমিক স্কুলে পঠনপাঠন স্থগিত
বিষ প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা ও বিকল্প প্রাকৃতিক কৌশল
মহাপ্রভুর ধামে হাজার বছরের পুরনো নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রাণীবধ বা বিষ প্রয়োগ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
| বিষয় | প্রশাসনিক নীতি ও পদক্ষেপ |
| পবিত্রতা ও ধর্মীয় বিধি | গর্ভগৃহে বিষ প্রয়োগের ফলে কোনো ইঁদুর মারা গেলে সম্পূর্ণ মন্দির অপবিত্র হয়। সেক্ষেত্রে ‘মহা-স্নান’ ও প্রক্ষালন করাতে হয়, যা দৈনন্দিন পুজো ও ভোগ নিবেদনে ব্যাঘাত ঘটায়। |
| জোয়ার ও ঐতিহ্যবাহী খাঁচা | বিষের বদলে জোয়ার, চাল বা তিলের টোপ দেওয়া কাঠের খাঁচা ব্যবহার করা হবে। স্থানীয় কারিগরদের তৈরি বিশেষ ডিজাইনের খাঁচায় ইঁদুর জীবন্ত ধরে বহুদূরে নির্জন এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হবে। |
সুরক্ষা ও নজরদারিতে মন্দির প্রশাসন
বিগ্রহের পাশাপাশি রত্নভাণ্ডার এবং মহাপ্রভুর রথ নির্মাণের কাঠ যেখানে রাখা হয়, সেখানেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সেবায়েতদের একটি বিশেষ দল প্রতিদিন পরিচ্ছদ কক্ষ ও গর্ভগৃহ পরিদর্শন করবেন। ধামের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পবিত্রতা অক্ষুণ্ন রেখে বিগ্রহ ও রেশমি পোশাক সুরক্ষিত রাখাই এখন মন্দির প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।


