কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
আর্থিক অনটন এবং অভাব কোনো দিন যে সুপ্ত প্রতিভাকে দমিয়ে রাখতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন নদিয়ার শান্তিপুরের তরুণ চিত্রশিল্পী বিকাশ দে। দামি রং-তুলি কেনার সামর্থ্য না থাকলেও ৫ থেকে ১০ টাকার সাধারণ বলপেনকে হাতিয়ার করেই তিনি সৃষ্টি করেছেন বিশ্বমানের শিল্পকর্ম। বিকাশের সেই অসাধারণ পেন-ড্রয়িং ‘ওয়ান্ডারিং ইন ইয়োরসেলফ’ (Wandering in Yourself) এবার প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে থাইল্যান্ডের এক মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই স্বীকৃতিতে উল্লাসের আমেজ শান্তিপুর জুড়ে।
আরও পড়ুনঃ বসু পরিবার থেকে সপ্তপদী; ‘ফ্লপমাস্টার’ থেকে শিখর-জয়ের স্বপ্ন
শৈশবের আঁকিবুঁকি থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ
বিকাশ দের শিল্পী হয়ে ওঠার গল্পটি চরম অধ্যবসায় এবং সীমিত সম্পদের মধ্যে অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত:
-
আঁকিবুঁকিতে হাতেখড়ি: প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই ঘরের মেঝে এবং খাতার পাতায় পেন-পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকা শুরু করেছিলেন তিনি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই প্রাথমিক আকর্ষণ একনিষ্ঠ শিল্পচর্চায় রূপ নেয়।
-
বিকল্প মাধ্যমের সন্ধানে বলপেন: আর্ট কলেজে পড়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না, কেনা সম্ভব হয়নি ক্যানভাস কিংবা দামি রং-তুলি। বাধ্য হয়েই হাতের কাছে থাকা ৫-১০ টাকার সাধারণ রঙিন বলপেনকেই নিজের সৃষ্টির প্রধান মাধ্যম করে তোলেন বিকাশ।
আরও পড়ুনঃ বিধ্বস্ত নেপালে আড়াই বছরের বোনের ঢাল চার বছরের দাদা! ছবি দেখে আবেগপ্লুত নেটদুনিয়া
শিল্পকর্ম ও থাইল্যান্ডের স্বীকৃতি
| বিষয় | বিবরণ ও বিশেষত্ব |
| নির্বাচিত শিল্পকর্ম | ‘ওয়ান্ডারিং ইন ইয়োরসেলফ’ (নিজের মধ্যে বিচরণ)। |
| কাজের ধরণ ও বিষয়বস্তু | সাধারণ বলপেনের সূক্ষ্ম রেখা, বিভিন্ন রঙের শেড এবং অনন্য শৈলীর মাধ্যমে মানুষের অন্তর্জগৎ, অনুভূতি এবং গভীর জীবনদর্শন ফুটিয়ে তুলেছেন বিকাশ। |
| আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী | আন্তর্জাতিক স্তরের বিচারকদের প্রশংসা কুড়িয়ে থাইল্যান্ডে আয়োজিত আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হতে চলেছে তাঁর তৈরি এই বলপেন স্কেচটি। |
অভাবকে জয় করে ৫ টাকার পেনে আঁকা বিকাশের এই ছবি আজ ভারতের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্থান করে নেওয়ায় গর্বিত তাঁর পরিবার এবং পুরো শান্তিপুরবাসী।


