Thursday, 3 September, 2026
3 September
HomeকলকাতাUttam Kumar: বসু পরিবার থেকে সপ্তপদী; ‘ফ্লপমাস্টার’ থেকে শিখর-জয়ের স্বপ্ন

Uttam Kumar: বসু পরিবার থেকে সপ্তপদী; ‘ফ্লপমাস্টার’ থেকে শিখর-জয়ের স্বপ্ন

সমস্ত বিতর্ক, লড়াই ও সংঘাত পেরিয়ে আজ এতদিন পরও বাঙালি জীবনের নস্টালজিয়া ও রোমান্টিকতার মূল কান্ডারী হিসেবে একই রকম উজ্জ্বল ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমার।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:

চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে উত্থান-পতনের বহু গল্প থাকলেও, নামমাত্র পারিশ্রমিক ও পরপর ব্যর্থতার তকমা মুছে ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষস্থানে পৌঁছে যাওয়ার রূপকথা লিখেছিলেন কেবল একজনই—উত্তম কুমার। তৎকালীন স্টুডিও পাড়ায় যাঁকে একসময় ‘ফ্লপমাস্টার জেনারেল’ বলে কটাক্ষ করা হতো, সেই উত্তম কুমারই পরবর্তীতে বাংলা সিনেমার সমার্থক এবং কোটি কোটি বাঙালির আবেগে পরিণত হন।

আরও পড়ুনঃ আরজি কর কাণ্ডে দেহ তড়িঘড়ি দাহের অভিযোগে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে

‘ফ্লপমাস্টার’ থেকে সাফল্যের সোপান

উত্তম কুমারের অভিনয় জীবনের শুরুটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। একের পর এক প্রতিকূলতা জয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন:

  • ব্যর্থতার দিয়ে সূচনা: ১৯৪৭ সালে তাঁর প্রথম হিন্দি ছবি ‘মায়াডোর’ (যা কখনোই মুক্তি পায়নি)-এ দৈনিক পাঁচ সিকে পারিশ্রমিকে এক্সট্রা শিল্পীর কাজ পান। ১৯৪৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি ‘দৃষ্টিদান’-এ মাত্র সাড়ে ১৩ টাকা হাতে পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত তাঁর একের পর এক ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।

  • মোড় ঘোরানো ছবি: ১৯৫২ সালে নির্মল দে পরিচালিত ‘বসু পরিবার’ ছবিতে বড় ভাইয়ের চরিত্রে সুযোগ পেয়ে প্রথমবার অভিনয়ের প্রশংসা পান এবং সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেন।

উত্তম-সুচিত্রা ও ঐতিহাসিক জুটিসমূহ

বাংলা সিনেমার ধারা বদলে দিয়েছিল একের পর এক কালজয়ী জুটি:

  • উত্তম-সুচিত্রা জুটির সূচনা: ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবির মাধ্যমে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর বিখ্যাত রোম্যান্টিক জুটির পথচলা শুরু। পরবর্তীকালে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ (১৯৫৪) ও ‘সপ্তপদী’ (১৯৬১)-র মতো মাইলফলক ছবি এই জুটিকে অমর করে রাখে।

  • নায়ক-গায়কের কেমিস্ট্রি: ১৯৫৫ সালে ‘শাপমোচন’ ছবির মাধ্যমে গড়ে ওঠে গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও নায়ক উত্তমের কিংবদন্তি জুটি।

আরও পড়ুনঃ মহালয়ায় ইডেন গার্ডেন্সে নজিরবিহীন মেগা শোয়ের পরিকল্পনা; থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রীও

ইতিহাসের পাতায় উত্তমের মাইলফলক

ক্ষেত্র ঐতিহাসিক বিবরণ
প্রথম রঙিন বাংলা ছবি সত্যজিৎ রায়ের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’-র (১৯৬২) পাঁচ বছর আগেই ১৯৫৭ সালে উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত ‘পথে হল দেরী’ গেভাকালার (Gevacolor) পদ্ধতিতে শুট করা হয়।
সাহেবি হলের নিয়ম ভঙ্গ চৌরঙ্গী পাড়ার ‘মেট্রো সিনেমা’ হলে শুধুই ইংরেজি ছবি চলার নিয়ম ভেঙে ১৯৫৭ সালে প্রথম বাংলা ছবি হিসেবে উত্তমের ‘চন্দ্রনাথ’ টানা ৭ সপ্তাহ চলে।
হিন্দি ছবির ধাক্কা ‘অগ্নিপরীক্ষা’র হিন্দি রিমেক ‘ছোটি সি মুলাকাত’ চরম ব্যর্থ হওয়ায় বিশাল ঋণের মুখে পড়েন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।

আইনি সংঘাত ও সামাজিক অবদান

পেশাদার জীবনের বাইরেও নানা বিতর্ক ও দরদী চরিত্রের জন্য পরিচিত ছিলেন উত্তম কুমার:

  • সমাজসেবামূলক কাজ: খরা বা বন্যার সময় সহশিল্পীদের নিয়ে রাজপথে নেমে ভিক্ষা করে অর্থ তুলতেন এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করতেন।

  • তপন সিংহের সঙ্গে দ্বন্দ: ১৯৮০ সালে ‘বাঞ্ছারামের বাগান’ ছবিতে সময় দিতে না পারায় অন্য অভিনেতাকে নেওয়ার অভিযোগে পরিচালক তপন সিংহের বিরুদ্ধে আইনি মামলা ঠুকে হেরে যান উত্তম, যা তাঁদের দীর্ঘকালীন বন্ধুত্বে ছেদ টানে।

সমস্ত বিতর্ক, লড়াই ও সংঘাত পেরিয়ে আজ এতদিন পরও বাঙালি জীবনের নস্টালজিয়া ও রোমান্টিকতার মূল কান্ডারী হিসেবে একই রকম উজ্জ্বল ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমার।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন