বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ২০২৬ সালের প্রথম দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন সাংস্কৃতিক অভ্যুত্থানের সলতে পাকানো শুরু করল নবান্ন। প্রথাগত বিসর্জন-পরবর্তী ‘রেড রোড কার্নিভাল’-এর গণ্ডি পেরিয়ে এবার মহালয়ার দিনই কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে এক সুবিশাল মেগা শো আয়োজনের পরিকল্পনা করছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। ইউনেস্কোর (UNESCO) ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বাংলার দুর্গাপূজাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর।
আরও পড়ুনঃ কোল্ড ড্রিংকসের পর এবার ডেয়ারি; ১০ টাকার ধামাকায় লঞ্চ হচ্ছে অম্বানীর নিজস্ব আইসক্রিম ব্র্যান্ড
ইডেন গার্ডেন্সে সম্ভাব্য মেগা শো-এর মূল আকর্ষন
মহালয়ার দিন আলো, সঙ্গীত, নৃত্য ও লোকসংস্কৃতির বিরল মেলবন্ধনে ইডেন গার্ডেন্সকে সাজিয়ে তোলার খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে:
-
বিপুল শিল্পী সমাবেশ: রাজ্যের নানা জেলা থেকে হাজার হাজার ঢাকি, ধুনুচি নাচের শিল্পী, ছৌ শিল্পী এবং লোকসংগীতশিল্পীদের একই মঞ্চে ও একই সাজে সমবেত পরিবেশনা।
-
সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী: দেবীর আগমনী গান থেকে শুরু করে বাংলার প্রতিটি জেলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা প্রদর্শনের পরিকল্পনা।
-
আন্তর্জাতিক প্রচারণা: অনুষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাকে ‘গ্লোবাল কালচারাল ট্যুরিজম ডেসটিনেশন’ হিসেবে উপস্থাপন করা।
অসমের গিনেজ রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য?
২০২৩ সালে অসমের গুয়াহাটিতে ১১,২৯৮ জন শিল্পী ও ২,৫৪৮ জন ঢোলবাদকের সমবেত বিহু পরিবেশনার মাধ্যমে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড (Guinness World Records) গড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, ইডেনের এই আয়োজনের ব্যাপ্তি ও শিল্পীর সংখ্যা অসমে আয়োজিত রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যেতে পারে, যদিও গিনেজ রেকর্ডের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাত্পর্য
১. পূজার ৬৫,০০ কোটি টাকার অর্থনীতি: রাজনৈতিক পরিবর্তনের পটভূমিতে বড় বড় পুজো কমিটিগুলির বাজেট ও আয়োজন নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটাতে চাইছে সরকার। প্রতিমাশিল্পী, আলোকশিল্পী, ঢাকি থেকে শুরু করে হোটেল ও খুচরো ব্যবসার সাথে যুক্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের রুজি-রুটি রক্ষায় উৎসবের মেজাজ চাঙ্গা রাখা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
২. রাজনৈতিক বার্তার বাস্তবায়ন: অতীতে বিজেপির তোলা “বাংলায় পুজো করতে দেওয়া হয় না” বার্তার উল্টো পিঠে দাঁড়িয়ে, ক্ষমতায় এসেই প্রশাসনিক উদ্যোগেই সর্ববৃহৎ আকারে পূজো আয়োজনের বার্তা দিতে চাইছে নবান্ন।
৩. ইডেনের চ্যালেঞ্জ: আন্তর্জাতিক এই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মেগা শো আয়োজনের জন্য সিএবি (CAB)-র সম্মতি, ক্রিকেট মরশুমের সূচি এবং মাঠের ঘাস ও সুরক্ষার বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।


