শারদোৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ল আন্তর্জাতিক মানচিত্রে। শিলিগুড়ির ইতিহাস ভেঙে এই প্রথম সুদূর দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন মা দুর্গা।

শিলিগুড়ির হাকিমপাড়া সংলগ্ন খেলাঘর মোড়ের বাসিন্দা স্বশিক্ষিত শিল্পী সঞ্জীব সাহা নিজের বাড়িতে তৈরি করেছেন সাড়ে চার ফুটের এই অনন্য ফাইবার গ্লাসের দুর্গা প্রতিমা। সমুদ্রপথে প্রায় এক মাসের দীর্ঘ যাত্রা শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রবাসী বাঙালি সোসাইটির হাত ধরে সেখানে পূজিত হবেন দেবী দুর্গা।
আরও পড়ুনঃ এ কি কাণ্ড শিলিগুড়িতে? ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেওয়ার জন্যেও ঘুষ!
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বরাত
ছোটবেলা থেকে শিল্পকর্মের প্রতি আগ্রহ থাকলেও কোনো প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না সঞ্জীব সাহার। কাজ শেখা বড় বড় কারখানায় দেখে দেখে:
-
সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা: গত দেড় বছর ধরে নিজের তৈরি ভাস্কর্য ও মূর্তির ছবি-ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা শুরু করেন সঞ্জীব। সেই কাজ দেখেই মুগ্ধ হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবাসী বাঙালি সোসাইটি তাঁর সাথে যোগাযোগ করে দুর্গা প্রতিমার অর্ডার দেয়।
-
৩ মাসের নিরলস পরিশ্রম: বরাত পাওয়ার পর দীর্ঘ তিন মাস ধরে নিজের বাড়িতেই একাই এই প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন শিল্পী।
আরও পড়ুনঃ টাকা পয়সার তীব্র অভাব কিন্তু মনে আছে প্রচুর আশা; রং-তুলির অভাব ঘুচিয়ে ৫ টাকার বলপেনে জয়!
মাটি থেকে ফাইবারের প্রতিমা রূপান্তরের প্রক্রিয়া

বিদেশের দীর্ঘ পথ এবং স্থায়িত্বের কথা মাথায় রেখে ঐতিহ্যবাহী মাটির পরিবর্তে ফাইবার ব্যবহার করা হয়েছে:
| কাজের ধাপ | প্রস্তুত প্রণালী ও বিশেষত্ব |
| প্রাথমিক কাঠামো | প্রথমে মাটি দিয়ে একটি সূক্ষ্ম মডেল তৈরি করা হয়। |
| মোল্ড ও ফাইবার প্রয়োগ | মাটির মডেলের ওপর মোল্ড বানিয়ে বিশেষ ফাইবার ও কেমিক্যালের ধাপে ধাপে প্রয়োগে মূল কাঠামো প্রস্তুত হয়। |
| ফিনিশিং ও বিশেষত্ব | মাটির মূর্তির চেয়ে এতে সময়, শ্রম ও খরচ—তিনটিই বেশি। তবে ফাইবার হওয়ায় প্রতিমাটি টেকসই ও সহজে বহনযোগ্য। |
এর আগে সঞ্জীববাবুর তৈরি বিভিন্ন ভাস্কর্য বিদেশে পাড়ি দিলেও, দক্ষিণ কোরিয়ায় দুর্গা প্রতিমা যাওয়াকে তিনি জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি ও আনন্দের বলে বর্ণনা করেছেন।


