বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
রাজ্যের গণআন্দোলন ও রাজপথের লড়াইয়ে শত শত তরুণ-তরুণীর সক্রিয় উপস্থিতি থাকলেও, সিপিআই(এম)-এর দলীয় সংগঠনে তার প্রতিফলনের অভাব নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করল দল। ২০২৬ সালের সদস্যপদ পুনর্নবীকরণের পর প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে পার্টির মোট সদস্যসংখ্যা বাড়ার বদলে সামান্য কমেছে। কল্যাণীতে অনুষ্ঠিত রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনের সিদ্ধান্ত ও দলের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা তুলে ধরে পার্টির মুখপত্রে স্পষ্ট ভাষায় সাংগঠনিক খামতি এবং নেতৃত্বের গাফিলতির কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৩ হাজার ড্রোনের আলোয় ‘দুর্গাপুজোর গল্প’; বিশ্বের বাঙালিকে জুড়তে বিরাট পরিকল্পনা রাজ্যের
সিপিএমের সাংগঠনিক পর্যালোচনার মূল উদ্বেগজনক দিকসমূহ
পার্টির মুখপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, নিচুতলার সংগঠনে যে সব বড় ধরনের ঘাটতি ধরা পড়েছে:
-
যুবাদের অনুপস্থিতি: ছাত্র-যুব আন্দোলনের ময়দান থেকে উঠে আসা নতুন মুখদের অ্যাসোসিয়েট গ্রুপ (AG)-এ সংগঠিত করে ধাপে ধাপে পার্টি সদস্যপদে উন্নীত করার কাজে বড়সড় ব্যর্থতা রয়েছে। মোট সদস্যের মধ্যে ৩০ বছরের কম বয়সিদের অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে কম।
-
সহকারী সম্পাদক ও মহিলা শূন্য শাখা: দলের ৬০ শতাংশেরও বেশি শাখায় কোনো সহকারী সম্পাদক নেই। পাশাপাশি বহু শাখা এমন রয়েছে যেখানে একজনও মহিলা সদস্য নেই।
-
নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্তির অভাব: তফশিলি জাতি, উপজাতি, পিছিয়ে পড়া বর্গ ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষকে সংগঠনে টেনে আনা এবং তাঁদের নেতৃত্বে তুলে আনার ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগের স্পষ্ট অভাব রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ উৎসবের মুখে রাজ্যজুড়ে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের বড়সড় অভিযান; ১৭টি সিল ও বহু লাইসেন্স বাতিল
ভবিষ্যৎ লড়াই ও মুখপত্রের বার্তা
আরএসএস-বিজেপি ও শাসকদলের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লড়াই সহজ করতে ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর পরিবর্তনের ডাক দেওয়া হয়েছে:
| বিষয় | মুখপত্র ও রাজ্য কমিটির নির্দেশিকা |
| নীতিভিত্তিক ঐক্য | দলের অভ্যন্তরে সাময়িক সমঝোতা নয়, বরং নীতিভিত্তিক ঐক্য সুদৃঢ় করতে হবে। নীতিগত ভিত্তি দুর্বল হলে দল অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল ও ‘কানাগলি’তে আটকে পড়ার ঝুঁকি থাকে। |
| দায়বদ্ধতা নির্ধারণ | শুধু পদ বা দায়িত্ব বণ্টন করলেই হবে না, সর্বস্তরের নেতাদের কাজের সুনির্দিষ্ট জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার নির্দেশ। |
| ধারাবাহিক ‘চেক-আপ’ | কল্যাণী অধিবেশনের নির্দেশ মেনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, ভুল সংশোধন এবং নিয়মিত সাংগঠনিক অডিট/চেক-আপ সুনিশ্চিত করা। |
আক্রান্ত ও অসহায় মানুষের বিশ্বাস ফেরাতে এবং শ্রেণিশত্রুর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে আগে নিজেদের সাংগঠনিক রোগ নিরাময় জরুরি বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে এই পর্যালোচনায়।


