Sunday, 6 September, 2026
6 September
Homeআন্তর্জাতিক নিউজAsim Munir: পরমাণু অস্ত্রের সুইচ এবার আসিম মুনিরের হাতে; নতুন আইনে পরিস্থিতিই...

Asim Munir: পরমাণু অস্ত্রের সুইচ এবার আসিম মুনিরের হাতে; নতুন আইনে পরিস্থিতিই গেল বদলে পাকিস্তানে

নতুন আইন প্রণয়নের ফলে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনায় যে মৌলিক পরিবর্তনগুলি এসেছে

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাসে ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন রদবদল। সংসদে নতুন প্রতিরক্ষা আইন পাস করার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ (CDF) নামক নতুন ক্ষমতাশালী পদ। আর এই পদে প্রথম আসীন হলেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, যিনি একই সাথে দেশের সেনাপ্রধানের (COAS) গুরুদায়িত্বও সামলাবেন। ১৯৭৬ সালের পর পাকিস্তানের সামরিক কমান্ড কাঠামোর এটিই সবচেয়ে বড় ও সুদূরপ্রসারী পুনর্গঠন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুনঃ টিকিটের দাম ৫ হাজার টাকা! ফরাক্কায় ধসের জেরে থমকে রেল; শিলিগুড়িগামী বাসের টিকিটের জন্য ধর্মতলায় হাহাকার

পুরনো বনাম নতুন সামরিক কমান্ড কাঠামো

নতুন আইন প্রণয়নের ফলে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনায় যে মৌলিক পরিবর্তনগুলি এসেছে:

বিষয় পুরনো ব্যবস্থা (Joint Chiefs of Staff) নতুন ব্যবস্থা (Chief of Defence Forces – CDF)
অপারেশনাল কমান্ড জয়েন্ট চিফসের প্রধান কেবল সমন্বয়কারী ছিলেন; তিন বাহিনীকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার আইনি ক্ষমতা ছিল না। সিডিএফ (CDF) এখন স্থল, নৌ ও বিমান—তিন বাহিনীর ওপরই একক ও সরাসরি অপারেশনাল কমান্ড প্রয়োগ করতে পারবেন।
রিপোর্টিং ও সিদ্ধান্ত পৃথক ৩ বাহিনীর প্রধানরা আলাদা সিদ্ধান্ত নিতেন ও সরকারের কাছে রিপোর্ট করতেন। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্রের ময়দান পর্যন্ত কমান্ডের একটি স্পষ্ট রেখা তৈরি হলো। সিডিএফ সরাসরি সরকারের কাছে রিপোর্ট করবেন।
পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিভিশনের ওপর সেনার প্রভাব ছিল পরোক্ষ। পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি ও অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর স্থলসেনার একক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বহু গুণ বৃদ্ধি পেল।

নতুন ব্যবস্থার পক্ষে পাকিস্তান সরকারের যুক্তি

আধুনিক যুদ্ধরীতির পরিবর্তনকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরে নতুন কাঠামোর ৩টি মূল লক্ষ্য স্থির করেছে ইসলামাবাদ:

  • বহুমাত্রিক সমন্বয়: আধুনিক যুদ্ধে কেবল স্থল বা আকাশপথে লড়াই সীমাবদ্ধ নয়। সাইবার হামলা, ড্রোন প্রযুক্তি ও মহাকাশ নজরদারিতে তিন বাহিনীর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় আনা।

  • বিভাগীয় আমলাতন্ত্র কমানো: তিন বাহিনীর ভিন্ন ভিন্ন ও পৃথক কাজের সংস্কৃতি (Silos) দূর করে এক ছাতার তলায় সিদ্ধান্ত নেওয়া।

  • দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: বড় ধরনের কোনো জাতীয় নিরাপত্তা বা সামরিক সংকটের সময়ে তাৎক্ষণিক ও একক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুনঃ পুজোর মুখে ১০৮ পদ্মের তীব্র আকাল; আকাশছোঁয়া খড় ও মাটির দামেও সঙ্কটে প্রতিমা শিল্পীরা

উদ্বেগ, রাজনৈতিক বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই ক্ষমতার পুনর্নবীকরণ নিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে:

  • নৌ ও বিমানবাহিনীর ওপর সেনার কর্তৃত্ব: নৌসেনা ও বায়ুসেনার শীর্ষ আধিকারিকদের বদলি, পদোন্নতি ও সামরিক কেনাকাটায় সেনা নেতৃত্বের প্রভাব একচ্ছত্র হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

  • গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার হুমকি: সমালোচকদের মতে, নাগরিক সরকারের হাত থেকে সামরিক নেতৃত্বের ওপর তদারকির ক্ষমতা আরও হ্রাস পাবে। একক ব্যক্তির হাতে সেনা, নৌ, বিমান ও পরমাণু বোমার রিমোট কন্ট্রোল চলে আসায় রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড়সড় নাড়া লাগতে পারে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলির আদলে এই সমন্বিত সামরিক কাঠামো গড়ার দাবি করা হলেও, আসিম মুনিরের হাতে এই বিপুল ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন পাকিস্তানকে কতখানি সেনা-নির্ভর করে তোলে, এখন সেটাই দেখার।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন