বিশেষ বাণিজ্য প্রতিবেদন:
বাংলা ও বাঙালির রসগোল্লাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়া তথা ‘ক্যানড রসগোল্লা’র পথিকৃৎ শতাব্দীপ্রাচীন মিষ্টির ব্র্যান্ড কে সি দাস প্রাইভেট লিমিটেড (K C Das Pvt Ltd) চরম আর্থিক ও পরিচালনাগত সংকটে পড়েছে। বেঙ্গালুরুতে একের পর এক আউটলেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এবার সংস্থার শেয়ারহোল্ডিং, পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নিয়ে বিবাদ পৌঁছেছে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল বা এনসিএলটি (NCLT)-এর কলকাতা বেঞ্চে।
আরও পড়ুনঃ বক্সায় রয়্যাল বেঙ্গলের বংশবৃদ্ধি, বিহারের ভাল্মিকি জঙ্গল থেকে আসছে বাঘিনী
বেঙ্গালুরুতে ধস, উৎপাদনে টান ও বকেয়া বেতন
দাক্ষিণাত্যে বিগত প্রায় ছয় দশক ধরে বাঙালি মিষ্টির অন্যতম ভরসাস্থল ছিল এই সংস্থা। কিন্তু বর্তমান চিত্র ভয়াবহ:
-
আউটলেট বন্ধ: একসময়ের প্রায় ২০টি আউটলেটের মধ্যে সিংহভাগই বন্ধ হয়ে গেছে। চালু থাকা দোকানগুলিতেও মেলানো দায় মিষ্টি।
-
উৎপাদন বন্ধ: চাহিদা শীর্ষে থাকা মিষ্টি দই ও সোনপাপড়ির মতো সামগ্রী বিগত পাঁচ মাস ধরে কারখানা থেকে তৈরিই হচ্ছে না। কারখানা স্থানান্তরের জেরে সংকট আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
-
কর্মীদের ক্ষোভ: জ্যেষ্ঠ কর্মীদের একাংশ টানা ছয় মাস এবং জুনিয়র কর্মীরা এক মাস অন্তর বেতন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন।
পারিবারিক গৃহবিবাদ ও NCLT-তে আইনি লড়াই
সংস্থার বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতির মূলে রয়েছে দাস পরিবারের ভেতরের ক্ষমতার লড়াই ও পরিচালনাগত টানাপোড়েন:
| পারিবারিক পক্ষ | ভূমিকা ও অভিযোগের মূল দিক |
| বীরেন্দ্রনাথ দাস (৯২) | প্রতিষ্ঠাতা কে সি দাসের নাতি। দীর্ঘদিন বেঙ্গালুরুর ব্যবসার দায়িত্ব সামলেছেন। |
| ধীমান দাস | প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের প্রপৌত্র (কলকাতার ব্যবসার দায়িত্বে)। অভিযোগ তুলেছেন, কোনো এজেন্ডা বা যথাযথ নোটিস ছাড়াই পর্ষদে পরিচালক নিয়োগ করা হয়েছে। |
| অম্বালিকা ও শ্রীনয় দাস | প্রয়াত প্রপৌত্র সঞ্জয় দাসের স্ত্রী ও ছেলে। শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোয় অবৈধ পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। |
| পরামর্শদাতা ও ম্যানেজার | পেশাদার পরামর্শদাতা মহাবীর জৈন ও জ্যেষ্ঠ ম্যানেজার শম্পা চক্রবর্তী পরিচালনায় আসার পর পরিবারকেন্দ্রিক ঐতিহ্যবাহী কাঠামো ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কর্মীদের একাংশ। |
আরও পড়ুনঃ ফের কাঁপল দক্ষিণবঙ্গ; মুর্শিদাবাদে ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল ফরাক্কা-ধুলিয়ান সীমান্ত
এলপিজি সংকট বনাম কলকাতার আশঙ্কা
বেঙ্গালুরুর উৎপাদন স্তব্ধ হওয়ার পেছনে ম্যানেজমেন্ট বাণিজ্যিকভাবে ‘এলপিজি (LPG) গ্যাসের আকাল’-কে দায়ী করলেও অন্য কোনো মিষ্টির ব্র্যান্ডে এর প্রভাব না পড়ায় এই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্মী ও শেয়ারহোল্ডাররা।
কলকাতায় এই মুহূর্তে কে সি দাসের ১২টি নিজস্ব আউটলেট রয়েছে। ধীমান দাস স্বয়ং স্বীকার করেছেন, “বেঙ্গালুরুর বর্তমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তার সরাসরি আর্থিক প্রভাব কলকাতার শতবর্ষের ব্যবসা ও সুনামের ওপর পড়তে বাধ্য।” ঐতিহ্যবাহী এই ব্র্যান্ডের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ও পারিবারিক সমঝোতার ওপর।


