বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
কলকাতার বিখ্যাত সতীপীঠ কালীঘাট মন্দিরের (Kalighat Temple) দেবীর কোটি কোটি টাকার গয়না ও মূল্যবান সম্পদ কোথায়? প্রায় চার দশক ধরে মেলেনি সেই লকারের চাবি! মন্দিরের ধন-রত্ন ও প্রণামীর তছরুপের চরম অভিযোগ তুলে এবার আইনি লড়াইয়ে নামল কলকাতার সুপ্রাচীন জমিদার বংশ—সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার। সাবর্ণ রায়চৌধুরী ফ্যামিলি কাউন্সিলের তরফে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা বিচারকের (যিনি পদাধিকার বলে কালীঘাট মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান) কাছে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।
অভিযোগের মূল বক্তব্য ও চার দশকের অনিয়ম
সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরীর দাখিল করা অভিযোগে মন্দির পরিচালনায় চরম অনিয়মের ছবি ফুটে উঠেছে:
-
লকারের চাবি নিখোঁজ: দেবীর গয়না ও সম্পদ গচ্ছিত রাখার জন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে যে লকার রয়েছে, ১৯৮০ সাল থেকেই তার চাবির কোনো সন্ধান নেই!
-
হিসাব ও অডিট বন্ধ: দীর্ঘদিন ধরে দেবীর সোনা-দানা ও অন্যান্য সম্পত্তি কী অবস্থায় আছে, তার কোনো অডিট বা অফিশিয়াল হিসাব মেলেনি।
-
আইন ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অবমাননা: ২০১৪ সালের পর থেকে মন্দির কমিটির কোনো নির্বাচন হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।
-
প্রণামী ও ব্যবস্থার গাফিলতি: ট্রেডার্স কাউন্সিলের প্রতিনিধিত্ব বন্ধ রাখা এবং ভক্তদের দেওয়া প্রণামীতে নজরদারির জন্য হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছে।
ইতিহাসের পাতায় কালীঘাট ও সাবর্ণ পরিবার
কালীঘাট মন্দিরের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে:
| বিষয় | ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস |
| সূচনা পর্ব (১৫৬৯-১৫৭০) | জিয়া গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতী দেবী ১৫৬৯ সালে হালিশহর থেকে কলকাতায় আসেন। ১৫৭০ সালে স্বপ্নাদেশ পেয়ে জল থেকে দেবী সতীপীঠের ডান পায়ের আঙুল উদ্ধার করে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। |
| কুলদেবী সংযোগ | রায়চৌধুরী পরিবারের দাবি অনুযায়ী, কালীঘাটের বর্তমান বিগ্রহ তাঁদের কুলদেবী ভুবনেশ্বরীর মূর্তির রূপভেদ। |
আরও পড়ুনঃ মমতার পথেই শুভেন্দু, শুধুমাত্র বিরোধী থাকাকালীন বিরোধিতা! বিদ্যুৎ বিলে ১০০% ছাড় কেন, CESC চুপ কেন? উঠছে প্রশ্ন
প্রশাসনের অবস্থান ও কোষাধ্যক্ষের প্রতিক্রিয়া
অতীতের ২০০৬ সালের হাইকোর্টের মামলার স্মৃতি উসকে দিয়ে এই নতুন বিতর্ক তৈরি হতেই মুখ খুলেছেন মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ কল্যাণ হালদার:
-
কমিটি গঠনে বিলম্বের যুক্তি: তিনি স্বীকার করেছেন যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দেরি হয়েছে। তাঁর দাবি—কমিটির সম্পাদকের প্রয়াণ এবং চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হয়েছিল।
-
ডিসেম্বরের আশ্বাস: বর্তমানে নির্বাচন প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি জেলা বিচারককে জানানো হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো নির্বাচন সম্পন্ন করে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে হিসাব হস্তান্তরের আশা রাখা হচ্ছে।
ভক্তদের বিশ্বাসের কেন্দ্রে থাকা সতীপীঠ কালীঘাটের অলঙ্কার ও সম্পত্তির নিরাপত্তার এই প্রশ্ন এখন রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


