বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি, মুর্শিদাবাদ:
আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী রেজিনগর আসনকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ও সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোট যাতে কোনোভাবেই বিভক্ত না হয়, সেই লক্ষ্যে বিরোধী শিবিরের মধ্যে একটি ‘বৃহত্তর ঐক্য’ বা মহাজোট গড়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
আইএসএফ (ISF) নেতা নওশাদ সিদ্দিকী ইতিমধ্যেই একটি সর্বাত্মক মহাজোটের ডাক দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলির অভ্যন্তরীণ মতভেদ ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব পেরিয়ে এই সমীকরণ কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে মমতাপন্থীদের কোণঠাসা অবস্থা; খোদ দলনেত্রীকে চ্যালেঞ্জ আবু তাহেরের
রেজিনগরে প্রার্থী পদ ও বিরোধী শিবিরের জল্পনা
শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে টেক্কা দিতে রেজিনগরে হেভিওয়েট কোনো মুখকে সামনে আনার বিষয়ে বিরোধী রাজনৈতিক অলিন্দে আলোচনা চলছে:
| বিরোধী মুখ / নেতার নাম | সম্ভাব্য ভূমিকা ও রাজনৈতিক সমীকরণ |
| অধীর রঞ্জন চৌধুরী | কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা তথা লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতার মুর্শিদাবাদে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। রেজিনগর আসনে তাঁর মতো হেভিওয়েট মুখকে দাঁড় করানো হতে পারে বলে গুঞ্জন। |
| বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য | বামফ্রন্টের বর্ষীয়ান আইনি ও রাজনৈতিক মুখ হিসেবে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের নামও রেজিনগরে যৌথ বিরোধী প্রার্থী হিসেবে ভাবার একটি প্রস্তাব উঠেছে। |
| নওশাদ সিদ্দিকী | আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকীর ‘মহাজোটের’ বার্তা রেজিনগরে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ অক্ষকে শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। |
আরও পড়ুনঃ চুল টানাটানি থেকে বাঁশ উঁচিয়ে হামলা! শিলিগুড়ি কলেজে এবিভিপি-এসএফআই সংঘর্ষ
মূল চ্যালেঞ্জ: ইগো, দ্বন্দ্ব ও দলীয় স্বার্থ
মুর্শিদাবাদে শাসকদলের আসন রোখা বিরোধী জোটের প্রধান লক্ষ্য হলেও পথের কাঁটা একাধিক:
-
নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও ইগো: ব্যক্তিগত ইগো, শীর্ষ নেতৃত্বের পারস্পরিক সমীকরণ এবং দলীয় স্বার্থ পেছনে ফেলে প্রতিটি বিরোধী দল কি একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে আসতে পারবে?
-
ভোটের অংক: বিরোধী ভোট কাটাকাটি বন্ধ করা না গেলে রেজিনগরে শাসকদলই বাড়তি সুবিধা পেয়ে যাবে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
শেষ পর্যন্ত রেজিনগরে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ সমঝোতা বাস্তবায়িত হয় নাকি সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে নতুন কোনো একক প্রার্থী সামনে আসেন, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনৈতিক মহলের।


