আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম মর্মান্তিক এবং প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা ৯/১১ (ইলেভেন্থ সেপ্টেম্বর)-এর ২৫ বছর পূর্ণ হলো। ২০০১ সালের এই দিনে হাইজ্যাক করা চারটি বাণিজ্যিক বিমানের সাহায্যে চালানো আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ৩,০০০ সাধারণ মানুষ। ঘটনার আড়াই দশক পরেও বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এই হামলার প্রভাব দৃশ্যমান।
আরও পড়ুনঃ কাঁপল বাংলা; ফের ভূমিকম্পের হানা, কেঁপে উঠল ভারত-সহ একাধিক এলাকা!
ভয়াবহ সেই দিনের ঘটনামাক্রম
১৯ জন আল-কায়দা জঙ্গি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ চারটে বাণিজ্যিক বিমান দখল করে ইতিহাসের অন্যতম বড় সন্ত্রাসী হামলা কার্যকর করে:
| সময় (IST / local time) | হামলার ঘটনাস্থল | বিবরণ ও প্রভাব |
| সকাল ৮:৪৬ | ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (নর্থ টাওয়ার) | আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারের উত্তর ভবনে সরাসরি আঘাত করে। |
| সকাল ৯:০৩ (১৭ মিনিট পর) | ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (সাউথ টাওয়ার) | ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের দ্বিতীয় বিমানটি দক্ষিণ ভবনে আছড়ে পড়ে। দুটি টাওয়ারই পরবর্তীতে ধসে পড়ে। |
| সকাল ৯:৩৭ | পেন্টাগন, ওয়াশিংটন ডিসি | তৃতীয় বিমানটি মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। |
| সকাল ১০:০৩ | শ্যাঙ্কসভিল, পেনসিলভেনিয়া | চতুর্থ বিমানটির (ইউনাইটেড ৯৩) যাত্রীরা প্রতিরোধ গড়লে সেটি একটি মাঠে ভেঙে পড়ে। |
আরও পড়ুনঃ দুর্গাপুজোতে নারদার ভিডিও! শারদ উৎসব বিতর্ক নিয়ে সরব শতরূপ ঘোষ
ক্ষতি ও পরবর্তী প্রভাব
-
প্রাণহানি: হামলাকারীদের বাদ দিয়ে ১৯টি দেশের মোট ২,৯৭৭ জন নির্দোষ নাগরিক এই হামলায় প্রাণ হারান।
-
পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ: এই ঘটনার মূল চক্রী ও আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে পরবর্তীতে ২০১১ সালে পাকিস্তানে এক গোপন সামরিক অভিযানে হত্যা করে মার্কিন বিশেষ বাহিনী (Navy SEALs)।
-
বৈশ্বিক নিরাপত্তা: এই হামলার পর থেকে বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দর ও আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমূল বদলে যায় এবং বিশ্বব্যাপী ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াই’ (War on Terror)-এর সূচনা হয়।
২৫ বছর পরেও নিউ ইয়র্কের ‘গ্রাউন্ড জিরো’ মেমোরিয়ালে প্রতিবছর নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই ঘটনা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কূটনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।


