বিশেষ পরিবেশ ও ভ্রমণ প্রতিনিধি:
কেরলের মুন্নারে বিখ্যাত ‘নীলকুরিঞ্জি’ ফুল ফোটার স্মৃতি যাদের ২০১৮ সালের কথা মনে আছে, তাঁদের ক্যালেন্ডারে পরবর্তী নির্ধারিত সময় ছিল ২০৩০ সাল। কিন্তু পাহাড়ি প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে চার বছর আগেই নীল-বেগুনি রঙে রঙিন হতে শুরু করেছে কেরলের পাহাড়। তবে মুন্নারের মূল এরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যান নয়, এ বার নীলকুরিঞ্জি ফুটেছে মাতুপেট্টি ও চোক্রামুড়ির উঁচু পার্বত্য এলাকায়।
আরও পড়ুনঃ রেজিনগরে কাফি, নন্দীগ্রামে মিলন; হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের
৪ বছর আগেই কেন? জীবনচক্র ও প্রজাতির পার্থক্য
নীলকুরিঞ্জি এমন এক বিরল উদ্ভিদ যা তার জীবনে মাত্র একবারই ফুল ফোটায় এবং ফুল ফোটার পর গাছটি মারা যায়। মাটিতে ঝরে পড়া বীজ থেকে নতুন চারা গজিয়ে পুনরায় ফুলে ভরতে সময় লাগে প্রায় ১২ বছর।
তবে পশ্চিমঘাটের সব অঞ্চলের নীলকুরিঞ্জি একই সাথে ফোটে না। অঞ্চলভেদে এদের ১২ বছরের চক্র আলাদা:
| অঞ্চল ও এলাকা | শেষবার ফুল ফোটার বছর | বর্তমান ও পরবর্তী চক্র |
| মাতুপেট্টি, কান্নিমালা, চোক্রামুড়ি ও কোদাইকানাল | ১৯৯০, ২০০২, ২০১৪ | ২০২৬ (বর্তমানে ফুটেছে) | পরবর্তী: ২০৩৮ |
| এরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যান (মুন্নার) | ২০০৬, ২০১৮ | ২০৩০ (পরবর্তী নির্ধারিত সময়) |
অর্থাৎ, ২০২৬ এবং ২০৩০—দুটি সময়ই সঠিক, কেবল ফুলের অবস্থান ও দল আলাদা। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভাষায় নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে ফুটে ওঠা এই ফুলকে বলা হয় ‘কল্লাপ্পুভ’ বা ‘মিথ্যে ফুল’।
আরও পড়ুনঃ সুজিত বসুর ছেলে সমুদ্র বসুর রেস্তরাঁতে কেজি কেজি পচা মাংস
নামকরণ ও ভৌগোলিক গুরুত্ব
-
নামের উৎপত্তি: তামিল ভাষায় ‘নীলা’ অর্থ নীল এবং ‘কুরিঞ্জি’ অর্থ পাহাড়ি ফুল। এই ফুলের নামানুসারেই ‘নীলগিরি’ বা নীল পাহাড় নামের উৎপত্তি।
-
প্রজাতির বিস্তৃতি: সাধারণত পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ মিটার উচ্চতার ঘাসজমিতে এটি জন্মায়। স্ট্রোবিলান্থেস (Strobilanthes) গোত্রের ১৪৬টি নথিভুক্ত প্রজাতির মধ্যে কেরলেই পাওয়া যায় প্রায় ৪৩টি প্রজাতি।
প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও ভ্রমণ নির্দেশিকা
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এডালিমেডু, সেভেনমালা, গুন্ডামালা এবং মীসাপুলিমালার উঁচুতে এই ফুলের ব্যাপ্তি আরও বাড়তে পারে। অতিরিক্ত পর্যটক সামলাতে ইদুক্কি জেলা প্রশাসন ও বন দপ্তর বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
-
অনলাইন টিকিট ও পরিবহন: পর্যটকদের সুবিধার্থে অনলাইন প্রবেশের ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত বাস চালানো হচ্ছে।
-
পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর নিয়ম: চিহ্নিত পথের বাইরে না হাঁটা, ফুল না ছেঁড়া, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যাঁরা ২০৩০ সালের এরাভিকুলামের অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের জন্য সেই সময় নির্ধারিত রয়েছে। তবে এ বছর যাঁরা পাহাড়মুখী হচ্ছেন, তাঁদের জন্য চোক্রামুড়ি ও মাতুপেট্টি ইতিমধ্যেই তাদের ১২ বছরের অপেক্ষার দুয়ার খুলে দিয়েছে।


