বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
গণেশ চতুর্থী ও আসন্ন উৎসবের মরশুমের মুখেই তেলঙ্গানার আদিলাবাদে উদ্ধার হলো এক ঐতিহাসিক ও বিরল ভাস্কর্য। স্থানীয় এক পুকুরপাড়ের গাছতলা থেকে প্রায় ৮০০ বছরের প্রাচীন এই দেবী পার্বতী ও শিশুরূপী গণেশের কষ্টিপাথরের বিগ্রহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
সাধারণ রূপের বাইরে গিয়ে দেবীর কোলে শিশুরূপে গণেশের দুধ পানের এই অনন্য ভাস্কর্যটি ঘিরে ইতিমধ্যেই ইতিহাসবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দূর প্রাচ্যে ভারতীয় গণেশের অনন্য রূপান্তর; জাপানের রহস্যময় ‘কাঙ্গিতেন’ ও তাঁর গোপন উপাসনা
ভাস্কর্যের গঠন ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য
গবেষকদের মতে, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানা অঞ্চলের প্রাচীন শিল্পরীতিতে দেবী পার্বতীর সঙ্গে বাল গণেশের এমন রূপ আগে দেখা যায়নি। ভাস্কর্যটির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | প্রত্নতাত্ত্বিক ও শিল্পগত বৈশিষ্ট্য |
| দেবীর অবয়ব | সাধারণ অলংকরণ সহ মাথায় কোনো বিশেষ মুকুট ছাড়া স্বাভাবিক মাতৃরূপে দেবী পার্বতী। |
| বাল গণেশের রূপ | মায়ের বাঁ উরুর উপর বসে দুধ পানরত শিশুরূপী গণেশ। হাতে অস্ত্র, একদন্ত বা লম্বোদর রূপ অনুপস্থিত। |
| আনুপাতিক সময়কাল | গঠন ও নকশা বিচারে ভাস্কর্যটি দ্বাদশ শতকের (১১০৪ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি) বলে অনুমান। |
| শিল্পরীতির মিল | আদিলাবাদের কাছে জৈনথের লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির এবং মালব দেশের পারমার রাজা জগদেবের সময়ের ভাস্কর্যশৈলীর ছায়া স্পষ্ট। |
উদ্ধার ও অনুসন্ধানের বিবরণ
স্থানীয় ইতিহাসের শিক্ষক রোড্ডাওয়ার পৃথ্বীরাজ প্রথম গ্রামের প্রান্তে একটি গাছের নীচে রাখা পাথরের মধ্যে এই ব্যতিক্রমী ভাস্কর্যটি দেখতে পান। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া খবরের ভিত্তিতে ‘নতুন তেলঙ্গানা ইতিহাস’ দলের আহ্বায়ক রামোজু হরগোপাল এবং ‘প্লিচ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’-এর সিইও ড. ঈমনি শিবনাগিরেড্ডি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিগ্রহটি পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করেন।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন চক্রান্ত, ৯/১১-র আগেই ভারতে হামলার ছক ছিল লাদেনের, ফাঁস সিআইএ-র নথিতে
এত প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মূর্তি কীভাবে সেখানে এল, বা অতীতে ওই স্থানে কোনো প্রাচীন মন্দির ছিল কি না—তা জানতে ইতিমধ্যে অনুসন্ধান ও গবেষণা শুরু করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।


