বিশেষ নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি:
১৯৯৮ সালে আত্মপ্রকাশের পর গত ২৮ বছর ধরে যে ‘জোড়া ঘাসফুল’ ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান রাজনৈতিক পরিচয়, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক আদেশে তা আপাতত ফ্রিজ বা স্থগিত করা হয়েছে। উপনির্বাচনের মুখে দলের অভ্যন্তরীণ দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আসল দল ও প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধ তৈরি হওয়ায় কমিশন এই অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে দুই পক্ষকে সমান সুযোগ দিতে আলাদা নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুটবল প্লেয়ার’ প্রতীক; অন্যদিকে অরূপ রায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিরোধী গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘এনভেলপ’ প্রতীক।
আরও পড়ুনঃ কাকের বাসায় কোকিলের ডিম! নন্দীগ্রামে ৭৯৪ ভোট পাওয়া কংগ্রেসকে সমর্থন ‘সর্বহারা’ মমতার
নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা ও পূর্বের নজির
নির্বাচন প্রতীক সংক্রান্ত ১৯৬৮ সালের আদেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সময়স্বল্পতার কারণে আপাতত এই অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করা হয়েছে। অতীতেও এমন প্রতীক বিরোধে একাধিক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দেখা গেছে:
| রাজনৈতিক ঘটনা ও ইতিহাস | কমিশনের বিবেচ্য বিষয় ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত |
| ১৯৬৯ ও ১৯৭৮: কংগ্রেস বিভাজন | ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে ‘দুই বলদ’ ও ‘গরু-বাছুর’ প্রতীক হারানোর পর আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নতুন ‘হাত’ চিহ্ন বরাদ্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে স্থায়ী পরিচয় পায়। |
| ২০২৩: শিবসেনা বিভাজন | আইনপ্রণেতাদের (সাংসদ ও বিধায়ক) সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীকে আসল শিবসেনা ও ‘ধনুক-বাণ’ প্রতীক দেওয়া হয়। |
| ২০২৪: এনসিপি বিরোধ | সাংগঠনিক কাঠামোর জটিলতার কারণে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীকে আসল এনসিপি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। |
আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রামে টানটান রাজনৈতিক নাটক; মমতার সমর্থনের পরেই পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান
তৃণমূলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ২২ জুনের বৈঠকের গুরুত্ব
তৃণমূলের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ২২ জুনের একটি বৈঠক বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। অরূপ রায় গোষ্ঠীর দাবি, ওই বৈঠকে তাঁকে ‘ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি’র চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয় কারণ আগের কমিটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী শিবিরের দাবি, কমিটির মেয়াদ ৫ বছর এবং পরবর্তী সাংগঠনিক নির্বাচন ২০২৭ সালে নির্ধারিত। ফলে ২২ জুনের বৈঠকের আইনি বৈধতা, দলের অভ্যন্তরীণ সংবিধান এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমর্থন—এই সবকটি দিক খতিয়ে দেখেই নির্বাচন কমিশন ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।


