বিশেষ আবহাওয়া প্রতিনিধি:
বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ও ঘনীভূত গভীর নিম্নচাপ অবস্থান করা সত্ত্বেও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আজ রোদঝলমলে ও পরিষ্কার আকাশের দেখা মিলেছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি অস্বাভাবিক মনে হলেও আবহাওয়াবিজ্ঞানীদের মতে, এটি একটি স্বাভাবিক এবং বহুল পর্যবেক্ষিত প্রাকৃতিক ঘটনা।
পরিষ্কার আকাশ দেখে আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূল মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ঝড়ের পূর্বাবাস বা প্রকৃতির এক ধরনের “ছদ্মবেশ” হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ অন্তরালেই চিরঘুমে চলে গেলেন চিরঘুমে ‘কলকাতার রেখা’ মিঠু মুখোপাধ্যায়
পরিষ্কার আকাশের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
নিম্নচাপ থাকা সত্ত্বেও আকাশ কেন মেঘমুক্ত ও রোদঝলমলে থাকে, তার মূল কারণগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ |
| জলীয়বাষ্পের আকর্ষণ | সমুদ্রে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হলে চারপাশের বিশাল অঞ্চলের বায়ুমণ্ডল থেকে মেঘ ও জলীয়বাষ্প নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে দ্রুত আকৃষ্ট হয়। |
| আশপাশের এলাকায় শুষ্কতা | পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে বায়ু ও আর্দ্রতা কেন্দ্রের দিকে টেনে নেওয়ার ফলে বাইরের অঞ্চলে মেঘের পরিমাণ সাময়িকভাবে কমে যায় এবং আকাশ নীল ও পরিষ্কার দেখায়। |
| ঝড়ের পূর্বাভাস | ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ২০২০ সালের মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ আছড়ে পড়ার ১–২ দিন আগেও দক্ষিণবঙ্গের আকাশ ছিল ঝকঝকে পরিষ্কার এবং আবহাওয়া ছিল চরম অস্বস্তিকর। |
আরও পড়ুনঃ নেপালের মানাসলুতে ভয়াবহ তুষারধস; ৭ ফুট বরফের নীচে মিলল বাঙালি পর্বতারোহীর দেহ
সতর্কতা ও পরবর্তী পরিস্থিতি
আবহাওয়াবিদদের মতে, নিম্নচাপের গতিপথ ও অবস্থানের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার রূপ দ্রুত বদলে যেতে পারে। সমুদ্র থেকে শক্তি সঞ্চয় করে সিস্টেমটি উপকুলের দিকে অগ্রসর হলে যে কোনো মুহূর্তে চিত্র বদলে গিয়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং তীব্র দমকা হাওয়া শুরু হতে পারে।
অতএব, বর্তমানের রোদঝলমলে আকাশ দেখে অস সতর্ক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন ও সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


