বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি:
প্রকাশ্যে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের ‘বিধায়ক দরবারে’ উপস্থিত হয়ে তোপ দাগলেন রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত দমদম পার্কে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং অপরাধীদের পুনর্বাসন দেওয়া নিয়ে মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আঙুল উঁচিয়ে সুর চড়ান তিনি। বিজেপির দুই বিধায়কের এই প্রকাশ্য বাগ্যুদ্ধ ও বাকবিতণ্ডায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টা নাগাদ ‘বিধায়ক দরবার’ চলাকালীন সাধারণ মানুষের সাথে সেখানে এসে বসেন পীযূষ। মন্ত্রী শারদ্বত তাঁকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে সম্মান জানানোর চেষ্টা করলেও প্রথম থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ কমিশনারদের ‘মতানৈক্য’ প্রকাশ্যে আসতেই জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবি বিরোধীদের
অভিযোগপত্র পাঠ ও মন্ত্রীর আশ্বাস
বৈঠক চলাকালীন এলাকার একাধিক বেনামি ও সনামি চিঠি পাঠ করেন মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির চাপ।
-
মন্ত্রীর বক্তব্য: শারদ্বত স্পষ্ট জানান, নির্মাণসামগ্রী কোথা থেকে কেনা হবে, তা সম্পূর্ণ সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।
-
রাজনৈতিক বার্তা: তৃণমূল আমলের তোলাবাজির তুলনা টেনে তিনি বলেন, “এখন বদলের সরকার। ভয় আউট, ভরসা ইন। না খাব, না কাউকে খেতে দেব। কাউকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই।”
আরও পড়ুনঃ ‘নন্দীগ্রাম থেকে নবান্ন’ রুবি মোড়ে হিন্দু মহাসভার দুর্গা পূজায় শিশির অধিকারীকে আমন্ত্রণ চন্দ্রচূড় গোস্বামীর
মাইক্রোফোন হাতে পীযূষের তোপ ও বিস্ফোরক অভিযোগ
মন্ত্রীর বক্তৃতার পরেই সভাশেষে মঞ্চ থেকে নেমে মাইক্রোফোন হাতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। তাঁর বক্তব্যের প্রধান প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
| অভিযোগের ক্ষেত্র | পীযূষ কানোরিয়ার বক্তব্য ও কৈফিয়ত দাবি |
| সিন্ডিকেট ও অপরাধ দমন | “জীবনে কাউকে সিন্ডিকেট চালাতে দিইনি। লালকুঠি থেকে যাদের ঢুকতে দিইনি, তাদের আবার রাজনৈতিকভাবে কেন ঢোকানো হচ্ছে, তার জবাব দিতে হবে।” |
| অপরাধীদের প্রশ্রয় | ‘ভিখারি’ নামক এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, “যে বা যারা অফিসে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখিয়েছিল, তাদের আপনার পাশের লোকেরা কেন এলাকায় ঢোকাচ্ছে?” |
| পুরসভার ঠিকাদারি ও স্বজনপোষণ | অনুষ্ঠানে উপস্থিত দক্ষিণ দমদম পুরসভার এগ্জ়িকিউটিভ অফিসারের (EO) উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একটি জায়গায় ১৮টি লাইটের কনট্রাক্ট একজন লোক কার মদতে পেলেন, তার উত্তর চাই। |
দমদম পার্ক এলাকায় শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি মন্ত্রীর সামনেই দলীয় বিধায়কের এই ধরনের চাঁচাছোলা ও উত্তেজিত কথাবার্তায় হতভম্ব হয়ে যান সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে উপস্থিত দলীয় কর্মীরা।


