Tuesday, 29 September, 2026
29 September
Homeআন্তর্জাতিক নিউজMyanmar: মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলা; পশ্চিম রাখাইনের বাজারে মৃত্যুমিছিল

Myanmar: মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলা; পশ্চিম রাখাইনের বাজারে মৃত্যুমিছিল

৫০ জন সাধারণ মানুষের প্রাণহানির এই ভয়াবহ ঘটনার পর আরাকান আর্মি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সেনা জান্তার এই পরিকল্পিত গণহত্যা ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই তারা যোগ্য সামরিক জবাব দেবে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি:

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ এবং সেনাশাসনের হিংসাত্মক সংঘাত এবার নতুন করে এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সূচনা করল। পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও (Kyauktaw) টাউনশিপের একটি জনবহুল পাইকারি বাজারে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে চালানো নজিরবিহীন বিমান হামলায় (Airstrike) অন্তত ৫০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৮ জন, যাঁদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। রাখাইন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটিকে অন্যতম ভয়াবহ আকাশপথে হামলা বলে আখ্যা দিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি।

কিয়াউকতাও এলাকাটি মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। ২০২৩ সালের শেষভাগে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয় বিদোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’ (Arakan Army)।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম এর পর ফিরছে অ্যাম্বাসেডর! স্মৃতির নস্টালজিয়া নিয়ে ফিরছে ‘ই-অ্যাম্বাসেডর’

দুপুরের বাজারে পরপর দুটি বোমা, রক্তে রাঙাল পথঘাট

আরাকান আর্মির দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও স্থানীয় ত্রাণ কর্মীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর নাগাদ যখন বাজারে কেনাবেচার প্রবল ভিড় ছিল, ঠিক তখনই সেনার একটি যুদ্ধবিমান আচমকা চক্কর কেটে বাজার ও সংলগ্ন সেতুর কাছে পরপর দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ফেলে।

  • হতাহতের প্রকৃতি: নিহত ও আহতদের মধ্যে বড় অংশই সাধারণ ব্যবসায়ী, সাধারণ ক্রেতা এবং পথচারী।

  • ধ্বংসলীলা: বোমার তীব্র বিস্ফোরণে বাজারের একাধিক দোকানপাট আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়, বেশ কয়েকটি গাড়ি ধসে পড়ে এবং কাছের একটি সেতুর অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুনঃ  টিকিট কেটে দেখতে হবে দুর্গাপুজো! ইন্দ্রনীল সেনকে সাতসকালে কসবার বাড়িতে দুর্গাপুজো দেখাচ্ছে ED

আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিক আগ্রাসন

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু কি-র সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেয় সামরিক জান্তা। এর পর থেকেই দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে।

এলাকা ও ঘটনাপরম্পরা বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
আরাকান আর্মির উত্থান ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টিরই নিয়ন্ত্রণ হাসিল করেছে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করা বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’।
এমরাক-উ হাসপাতালে হামলা গত বছরের ডিসেম্বরেই রাখাইনের এমরাক-উ (Mrauk-U) এলাকার একটি হাসপাতালে একই ভাবে বিমান হামলা চালিয়েছিল সেনা, যেখানে ৩৪ জন মারা যান এবং ৮০ জন আহত হন।
সাম্প্রতিক কিয়াউকতাও হামলা ৫০ জন সাধারণ মানুষের প্রাণহানির এই ভয়াবহ ঘটনার পর আরাকান আর্মি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সেনা জান্তার এই পরিকল্পিত গণহত্যা ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই তারা যোগ্য সামরিক জবাব দেবে।

স্থলপথে বিদ্রোহীদের কাছে একের পর এক ঘাঁটি খুইয়ে সামরিক জান্তা এখন প্রধানত আকাশপথের এই প্রাণঘাতী বোমারু হামলাকেই হাতিয়ার করেছে। এতে খাদ্য সংকট, ক্রমাগত বাস্তুচ্যুতি এবং আকাশপথে হামলার আতঙ্কে রাখাইনের সাধারণ জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন