বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগে মঙ্গলবার রাজধানীতে নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী থাকল দেশ। নির্বাচন সদন অভিযান রুখে দিলে আকাশবাণী ভবনের সামনে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা রাজপথ স্তব্ধ করে বিক্ষোভ দেখান ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের ৩ শত সাংসদ। মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বাড্রে এবং তৃণমূলের লোকসভার চিফ হুইপ ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ একাধিক বর্ষীয়ান সাংসদকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে চাড়িয়ে বাসে তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ।
রাত ১০টার পর কিংসওয়ে ক্যাম্প থানা থেকে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলেও, পুলিশের এই বলপ্রয়োগ এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনের এক্স (X) বার্তার ভিডিও সামনে আসতেই প্রতিবাদের ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
“মোদী-শাহ-ভাগবত দেশ হাইজ্যাক করেছেন, ছাড় পাবেন না!”: রাহুলের সরাসরি হুঙ্কার
বাসের জানলা দিয়ে উঁকি মেরে এবং আটক হওয়ার আগে আকাশবাণী চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র আক্রমণ শানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী:
“আমি এখানে এসেছি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত এবং জ্ঞানেশ কুমার ভারতের গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছেন। মোদী-শাহ-ভাগবত ‘ভোট চুরি’ করে দেশকে হাইজ্যাক করেছেন এবং জ্ঞানেশ কুমার এই বিশ্বাসঘাতকতায় তাঁদের সাহায্য করেছেন! নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ৫০ গজ দূরে আটকে রাখা হচ্ছে, কারণ সিইসি ভয় পেয়ে পালিয়েছেন। দেশের মানুষের সঙ্গে যাঁরা এই ডিজিটাল চক্রান্ত করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে—কেউই ছাড় পাবেন না।”
“বাংলায় ৯০ লক্ষ নাম গায়েব, সিইসি-কে গ্রেফতার করতে হবে”: তোপ অভিষেকের
সংসদের মকরদ্বার থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একযোগে সিইসি-র বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রতারণার অভিযোগ আনেন।
| শীর্ষ বিরোধী নেতার তোপ | বক্তব্যের মূল নির্যাস ও নালিশ |
| অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় | “পশ্চিমবঙ্গে একতরফাভাবে ৯০ লক্ষ বৈধ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে লাখ লাখ আবেদন ঝুলছে। নির্বাচন কমিশনের মহা-চুরি ধরা পড়ে গিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত।” |
| মল্লিকার্জুন খড়্গে | “স্বাধীনতার পর পাওয়া সর্বজনীন ভোটাধিকার হরণ করছেন সিইসি। তিনি পুরোপুরি মোদী-শাহের হাতের পুতুল হয়ে কাজ করছেন। দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে দেওয়া হবে না।” |
| অখিলেশ যাদব | “২০১৭, ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। আর এবার তো পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশন নির্লজ্জতার সব সীমা পার করে দিয়েছে।” |
আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার রাতারাতি ৩ হাজার কমে দেড় হাজার! ৩২ বছরের তরুণীর ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ঢুকল ১৫০০ টাকা
পুলিশি দাপাদাপি ও রাজপথ অবরুদ্ধ
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় অখিলেশ যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের নিয়ে মিছিল নীতি আয়োগের সামনে পৌঁছালে কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে পথ রুদ্ধ করে দিল্লি পুলিশ। সেখান থেকে রাহুল-প্রিয়ঙ্কাদের দুপুরে একবার আটক করে ছেড়ে দেওয়া হলেও, তাঁরা পিছু না হেঁটে আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান ধরে রাখেন।
সাড়ে ৯ ঘণ্টার এই টানটান উত্তেজনার পর পুলিশি বলপ্রয়োগে শীর্ষ নেতাদের তুলে নিয়ে যাওয়া এবং গভীর রাতে তাঁদের মুক্তির পর, বিরোধীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ও সংসদের এই যুগ্ম লড়াই থামবে না।


