বিশেষ অপরাধ বিষয়ক প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি/মেরঠ:
প্রেমিককে সম্পূর্ণ নিজের করে পেতে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে নীল ড্রামে ভরে সিমেন্ট দিয়ে সিল করে দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনাটি গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। ২০২৫ সালের সেই চাঞ্চল্যকর ‘সৌরভ রাজপুত হত্যা মামলা’য় বুধবারই দুই অভিযুক্ত মুসকান রস্তোগি ও তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লার ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে আদালত। মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ আসার পর থেকেই জেলের ঘেরাটোপে মুসকান ও সাহিলের অবস্থা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। জেল সূত্রে খবর, ফাঁসির ভয়ে ও অনুশোচনায় দুজনেই বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন এবং গত দু’বেলা কার্যত কোনো খাবারই স্পর্শ করেননি।
আরও পড়ুনঃ বিপদ বাড়ল ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির; সমন পাঠাল আদালত
নাম মুছে পরিচয় এখন ‘কয়েদি নম্বর’, বিশেষ পোশাক
আদালতের রায়ের পর থেকেই কারাগারের কঠোর নিয়মাবলির মধ্যে ঢুকে পড়েছে দুই দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী। তাদের সাধারণ মানুষের মতো আর নাম ধরে ডাকা হবে না।
-
বন্দি নম্বর ও পরিচয়: জেল রেকর্ড অনুযায়ী, সাহিল শুক্লার নতুন বন্দি নম্বর ৩৯৫/২০২৬ এবং মুসকান রস্তোগির নম্বর ৩৯৬/২০২৬। জেল প্রশাসনের নিয়ম মেনেই পরবর্তী সমস্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এই নম্বর দিয়েই তাদের চিহ্নিত করা হবে।
-
জেলের পোশাক: সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর দুজনকে জেলের বিশেষ পোশাক দেওয়া হয়েছে। সাহিল পেয়েছে সাদা রঙের কুর্তা ও পায়জামা এবং মুসকানকে দেওয়া হয়েছে একটি সাদা শাড়ি ও ক্রিম রঙের শ্যুট। এ ছাড়া মুসকান যে সেলে রয়েছে, তার নম্বর ১২(বি) এবং সাহিলের কুঠরির নম্বর ১৫।
মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুসকানের চরম দুশ্চিন্তা
মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই মুসকানের মানসিক অবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। জেল সূত্রের খবর, নিজের জীবন বা ফাঁসির দণ্ডের চেয়েও তার একমাত্র কন্যার ভবিষ্যৎ ও লালনপালন নিয়ে সে চরম উদ্বিগ্ন। আদালতের রায়ের পর থেকে সন্তানের কথা ভেবেই তার দুশ্চিন্তা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে এবং সে সারাক্ষণ কান্নাকাটি ও ছটফট করছে।
আরও পড়ুনঃ ভুলের প্রায়শ্চিত্ত, প্রকাশ্যে কান ধরে উঠবস! জনতার কাছে ক্ষমা চাইলেন বিজেপি বিধায়ক
কী ঘটেছিল সেই নৃশংস রাতে?
২০২৫ সালের ৩ মার্চ উত্তরপ্রদেশের মেরঠে ঘটে যাওয়া এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি আজও মানুষের মনে শিহরণ জাগায়:
-
প্রেমে বিশ্বাসভঙ্গ: মার্চেন্ট নেভির অফিসার সৌরভ রাজপুতের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল মুসকানের। মুসকানকে সময় দিতে সৌরভ নিজের চাকরি পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি লন্ডনের একটি বেকারিতে চাকরি নেন এবং তিন বছর বিদেশে ছিলেন।
-
পরকীয়া ও ব্লুপ্রিন্ট: বিদেশে থাকাকালীনই সৌরভ জানতে পারেন যে, তাঁরই বন্ধু সাহিল শুক্লার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছে স্ত্রী মুসকান। বিষয়টি নিয়ে তীব্র অশান্তি ও ডিভোর্সের কথা উঠলেও একমাত্র সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সৌরভ সেই পথ থেকে সরে আসেন।
-
জন্মদিনের পার্টি ও খুন: মেয়ের জন্মদিনে দেশে ফিরে আসেন সৌরভ। কিন্তু মুসকানের মনে যে অন্য ভয়ানক চক্রান্ত চলছিল, তা তিনি বুঝতে পারেননি। মেয়ের জন্মদিনের রাতে স্বামীর সঙ্গে হাসিমুখে পার্টি করে মুসকান, এমনকি নাচেও অংশ নেয়। আর সেই রাতেই প্রেমিক সাহিলকে সঙ্গে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় সৌরভকে খুন করে সে।
-
নীল ড্রামে সিমেন্ট ঢালাই: খুন করার পর সৌরভের দেহ টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। এরপর একটি বড় নীল ড্রামের মধ্যে সেই দেহাংশ ভরে বালি, জল ও সিমেন্ট গুলে তা ঢেলে কংক্রিটের মতো সিল করে দেওয়া হয়, যাতে দুর্গন্ধ বা প্রমাণ বাইরে না আসে।
অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালত এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে মুসকান ও সাহিলকে ফাঁসির সাজা শোনাল। এখন পরবর্তী আইনি লড়াই ও ফাঁসির দিন ঘোষণার অপেক্ষায় দিন কাটছে এই দুই অপরাধীর।


