Wednesday, 14 October, 2026
14 October
HomeদেশDelhi Protest: প্রতিবাদের নতুন ঠিকানায় পকেটে টান! রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ দেখাতে খরচ...

Delhi Protest: প্রতিবাদের নতুন ঠিকানায় পকেটে টান! রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ দেখাতে খরচ ১ লক্ষ ২১ হাজার

‘যন্তর মন্তর’-কে বাদ দিয়ে সম্প্রতি রামলীলা ময়দান, বুরারি এবং সিবিডি ময়দানকে নতুন প্রতিবাদস্থল হিসেবে চিহ্নিত করেছে দিল্লি পুলিশ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:

দিল্লিতে রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের দীর্ঘদিনের চেনা ঠিকানা ‘যন্তর মন্তর’-কে বাদ দিয়ে সম্প্রতি রামলীলা ময়দান, বুরারি এবং সিবিডি ময়দানকে নতুন প্রতিবাদস্থল হিসেবে চিহ্নিত করেছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু যন্তর মন্তরে বিনামূল্যে বা কম খরচে যেখানে প্রতিবাদ জানানো যেত, নতুন নিয়ম অনুযায়ী রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ দেখাতে গেলেই আন্দোলনকারীদের পকেটে মারাত্মক টান পড়তে চলেছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগমের উপযুক্ত এই ঐতিহাসিক মাঠে এক দিন প্রতিবাদ সভা করতে গেলে খরচ পড়বে ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা! শুধু তাই নয়, মাঠের বুকিং স্লট ফাঁকা না থাকায় প্রতিবাদের পথ কতটা কঠিন হবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক।

আরও পড়ুনঃ  ‘কাঁচির দরকার কী, হাতই তো যথেষ্ট’ ফিতে ছিঁড়ে পুজো উদ্বোধন করে ফের খবরের শিরোনামে দিলীপ ঘোষ!

এক দিনের বুকিংয়ে খরচের বহর

দিল্লি পুরনিগমের (MCD) উদ্যান বিভাগের মাধ্যমে রামলীলা ময়দান বুক করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী:

  • ভাড়া ও সিকিউরিটি: এক দিনের জন্য মাঠের মূল ভাড়া ৫০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে দিতে হয় ৫৫ হাজার টাকার সিকিউরিটি ডিপোজিট। সব মিলিয়ে কর-সহ প্রথম দফায় জমা দিতে হয় ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা।

  • অন্যান্য শর্ত: মাঠ ব্যবহারের সরকারি অনুমতি বা এনওসি (NOC) পেতে দিল্লি পুলিশের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক।

পুরনিগমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাঠের একটি অত্যন্ত ছোট অংশ বিনা খরচে প্রতিবাদের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সেখানে বড়জোর ১৫০ জনের মতো মানুষ ধরতে পারেন। ফলে রাজনৈতিক দল বা বড় মাপের আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে প্রতিবাদ করা রীতিমতো দুরূহ হয়ে উঠবে।

বুকিংয়ের খরা ও ফাঁকা মাত্র তিন দিন!

খরচ তো বটেই, তার চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাঠের প্রাপ্যতা বা স্লট বুকিং। আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী আড়াই মাসের মধ্যে রামলীলা ময়দানে বড় সভা করার জন্য মাঠ ফাঁকা রয়েছে মাত্র তিনটি দিন—চলতি বছরের ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর!

দিল্লির ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (AAP)-র দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ এই সিদ্ধান্তকে তীব্র কটাক্ষ করে ‘এক্স’ (টুইটার)-এ পোস্ট করেছেন। তাঁর দাবি, মাঠটি ইতিমধ্যেই রামলীলা ও উৎসবের মরশুমের জন্য বুক করা রয়েছে। এছাড়া রামলীলা ময়দানটি একটি অত্যন্ত ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। এর ঠিক পাশেই রয়েছে তিনটি বড় হাসপাতাল এবং দিল্লি পুরনিগমের সদর দফতর। ফলে বড় জমায়েত হলে আশপাশের রাস্তাগুলিতে চরম যানজটের আশঙ্কা রয়েছে, যা অতীতেও দুর্গাপুজো, দশেরা বা রাজনৈতিক সভার সময় দেখা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  ১৯৪৬-এর ছায়া কি ফিরছে তিলোত্তমায়? উৎসবের মরশুমে রাজাবাজারের মিছিল নিয়ে চরম আশঙ্কায় বাংলা

ঐতিহাসিক ময়দান বনাম বর্তমান প্রশাসনিক কড়াকড়ি

১৯৩০ সাল পর্যন্ত যে জায়গাটি একটি পুকুর ছিল, পরবর্তী সময়ে মাটি ভরাট করে ১৯৩২ সাল থেকে সেখানে রামলীলা শুরু হয়। স্বাধীনতার পর থেকেই এটি ভারতের রাজনৈতিক সভা ও জনসমাবেশের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এমনকি ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০২০ সালে এখানেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

কিন্তু যন্তর মন্তর থেকে প্রতিবাদ সরিয়ে রামলীলা ময়দান, বুরারি ও সিবিডি ময়দানে বিক্ষোভকে সীমাবদ্ধ করার এই নতুন পুলিশি নির্দেশ এবং তার সঙ্গে যুক্ত মোটা অঙ্কের খরচ ও বুকিংয়ের খরা—সব মিলিয়ে রাজধানীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথকে কার্যত শৃঙ্খলিত করার চেষ্টা চলছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আন্দোলনকারী মহল।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন