Wednesday, 14 October, 2026
14 October
HomeদেশWorld Bank: বিশ্ব ব্যাঙ্কের চাঞ্চল্যকর তথ্য! উন্নত বিশ্বের দরিদ্রদের জীবনযাত্রা ভারতের ধনীদের...

World Bank: বিশ্ব ব্যাঙ্কের চাঞ্চল্যকর তথ্য! উন্নত বিশ্বের দরিদ্রদের জীবনযাত্রা ভারতের ধনীদের চেয়ে অনেক ভাল

দেশের মানুষের সামগ্রিক আয় এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ অর্থনৈতিক প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:

বিশ্বের উন্নত ও ধনী দেশগুলির একেবারে তলানিতে থাকা দরিদ্র ১০ শতাংশ মানুষ যে পরিমাণ আয় বা খরচ করেন, ভারতের সমাজের শীর্ষ ধনী ১০ শতাংশ মানুষের আয় নাকি তার চেয়েও কম! বিশ্ব ব্যাঙ্কের ‘পভার্টি অ্যান্ড ইনইক্যুয়ালিটি প্ল্যাটফর্ম’ (Poverty and Inequality Platform)-এর সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে এই ভয়ানক বৈষম্য ও অস্বচ্ছলতার ছবি সামনে আসতেই দেশের অর্থনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক বিতর্ক।

আরও পড়ুনঃ  বাজার আগুন; কপালে হাত মধ্যবিত্তের, মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৫.৫৪%

কী বলছে বিশ্ব ব্যাঙ্কের তথ্য?

বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রকাশিত তুলনামূলক পরিসংখ্যানে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো:

  • ভারতের গরিব বনাম উন্নত দেশের গরিব: ভারতে যাঁরা সমাজের সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশের মধ্যে পড়েন, তাঁদের প্রতিদিনের মাথাপিছু আয় বা খরচ মাত্র ৩ ডলারের কাছাকাছি। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই অঙ্কটা প্রায় ২৫ ডলার, কানাডায় ৩১ ডলার এবং জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় মাথাপিছু প্রতিদিন প্রায় ২৮ ডলার।

  • ভারতের ধনীদের সঙ্গে তুলনা: অন্যদিকে, ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা (Economic Survey) অনুযায়ী, যাঁদের মাসিক আয় ৮০ হাজার টাকা, তাঁরাই দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় স্থান পান। এই বিত্তশালীদের দৈনিক আয় বা খরচ মাথাপিছু মাত্র ১০ ডলার! অথচ আমেরিকার শীর্ষ ধনী ১০ শতাংশের দৈনিক আয় মাথাপিছু আকাশছোঁয়া ১৭৩ ডলার। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় এই অঙ্ক ১২৯ ডলার এবং জার্মানিতে ১২৮ ডলার।

অর্থাৎ, উন্নত দেশগুলির একেবারে তলানিতে থাকা দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানও যেখানে ভারতের তথাকথিত বিত্তশালীদের চেয়ে অনেক উঁচুতে রয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থাকেই কাঠগড়ায় তুলেছে।

প্রকৃত সমস্যা কি শুধুই দারিদ্র্য, নাকি সামগ্রিক কম আয়?

‘ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’-এর প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট অহোনা দত্তগুপ্তের মতে, এই পরিসংখ্যান ভারতের সামনে লুকিয়ে থাকা এক গভীর সঙ্কটের দিকে আঙুল তুলছে। সমস্যাটি কেবল নির্দিষ্ট পরিসরে দারিদ্র্য দূরীকরণের নয়, বরং সমগ্র অর্থনীতিজুড়েই মানুষের আয় অত্যন্ত কম থাকার এক কাঠামোগত দুর্বলতা।

ভারতে ১০ ডলার খরচ করলেই যেখানে কেউ দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় ঢুকে পড়তে পারেন, আমেরিকা বা জাপানের মতো দেশে সেই একই পরিমাণ অর্থ খরচ করে একজন মানুষ সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশের দলে জীবন কাটান। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, দেশের দরিদ্রতম মানুষগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা জরুরি ঠিকই, কিন্তু শুধু এটুকু করলেই সামগ্রিক সমৃদ্ধি আসবে না। দেশের দরিদ্র মানুষগুলো যদি একদিন বিত্তশালী বলে বিবেচিত মানুষদের পর্যায়েও পৌঁছে যায়, তবুও উন্নত দেশগুলির সাধারণ নাগরিকের জীবনযাত্রার মানের তুলনায় তারা বহু যোজন পিছিয়ে থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  পুজোয় সারারাত কল খুললেই জল! KMC-কে বড় নির্দেশ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার

সমাধানের পথ: উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কাঠামোগত সংস্কার

এই বেহাল দশা কাটাতে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের খাদ ভরাট করতে দেশের মানুষের সামগ্রিক আয় এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • উৎপাদনশীলতা ও মজুরি বৃদ্ধি: জমি, শ্রম এবং মূলধনের সঠিক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংস্থাকে উৎপাদনমুখী করে তুলতে হবে। এর মাধ্যমেই ভবিষ্যতে ভালো বেতনের চাকরি এবং প্রতিটি পরিবারের মাথাপিছু আয় বাড়ানো সম্ভব।

  • ব্যবসার সহজীকরণ (Ease of Doing Business): উৎপাদনশীলতা পুরোপুরি নির্ভর করে নতুন উদ্ভাবন এবং ব্যবসার পরিকাঠামোর ওপর। উদ্যোক্তারা যাতে অতিরিক্ত প্রশাসনিক হয়রানি ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, ব্যবসার পথ সহজ হয় এবং যুক্তিসঙ্গত কর ব্যবস্থা বজায় থাকে, সেদিকে কড়া নজর দিতে হবে।

বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং সার্বিক সমৃদ্ধির স্বার্থে দেশের মানুষের আয়ের স্তরকে সামগ্রিকভাবে ওপরের দিকে টেনে তোলাই এখন ভারতের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন