বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা সময়মতো না মেলা এবং সমস্ত শর্ত পূরণ করার পরেও বহু মহিলা সরকারি ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে। ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চেয়ে এবং স্বচ্ছতার দাবিতে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি পাঠাতে শুরু করেছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মহিলারা। শুধু তাই নয়, পুজোর ছুটির পরই এই বিষয়ে বড়সড় রাজ্যব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি।
আরও পড়ুনঃ ৩২ হাজার টাকার গরু, দুধ দেয় মাত্র ৩ লিটার! প্রতারণার নালিশ; সঙ্গে গরু নিয়ে সোজা থানায় হাজির গোয়ালা
চিঠির নেপথ্যে যে প্রশ্নগুলি তুলছেন মহিলারা
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও মহিলা সমিতির তথ্য অনুযায়ী, মিঠু চক্রবর্তী মুখার্জি, নার্গিস খাতুনের মতো রাজ্যের বহু অসহায় মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার বকেয়া টাকা না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়ে চিঠি লিখেছেন।
তাঁদের প্রধান প্রশ্নগুলি হলো:
-
ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কেন বহু যোগ্য মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন?
-
কেনই বা কারও কারও ক্ষেত্রে এক মাস টাকা দেওয়ার পর তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে?
-
মাঝের দু’মাস টাকা না পাওয়ার পর পরবর্তীকালে টাকা ঢুকলেও বকেয়া টাকা কেন মেটানো হচ্ছে না?
‘প্রায় ৩০ লক্ষ যোগ্য প্রার্থীর নাম বাদ’, বিস্ফোরক দাবি মহিলা সমিতির
বুধবার কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেতৃত্ব এই বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিনহা সহ অন্যান্য নেত্রীরা অভিযোগ করেন, তাঁদের নিজস্ব সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে এই মুহূর্তে রাজ্যের অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকা থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ যোগ্য প্রার্থীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ এই বঞ্চিতদের অনেকেরই ভোটার কার্ডে নাম রয়েছে এবং তাঁরা সমস্ত শর্ত পূরণ করেন।
এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে প্রায় এক হাজার চিঠি পাঠিয়ে জবাব তলব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভাতা পাওয়া সমস্ত উপভোক্তাদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা এবং কাদের নাম কেন বাদ গেল, তার পরিষ্কার কারণ দর্শানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আরও পড়ুনঃ চরম সতর্কতা জারি! সমুদ্রের জল সরে গেল দেড় কিলোমিটার! তাজপুরের আকস্মিক ঘটনায় বিস্মিত স্থানীয় ও মৎস্যজীবীরা
পুজোর পর বৃহত্তর আন্দোলনের হুংকার
মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, শারদোৎসবের দিনগুলি মিটে যাওয়ার পরও যদি নবান্ন বা মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কোনো সদুত্তর না মেলে এবং বঞ্চিত মহিলারা তাঁদের প্রাপ্য টাকা হাতে না পান, তবে বাধ্য হয়ে তাঁরা বৃহত্তর রাজ্যজোড়া রাজনৈতিক আন্দোলনে নামবেন। দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে মহিলাদের এই ভাতা-বিক্ষোভ এবং মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি পাঠানোর ঘটনা প্রশাসনিক স্তরেও নতুন চাপের সৃষ্টি করেছে।


