বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি:
রাশিয়া সংক্রান্ত কড়া নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ এবং অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে বড়সড় ছাড়ের ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হওয়া বিলটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার ঠিক আগের দিন গভীর রাতে বিশেষ আদেশনামা জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানান তিনি। হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের ফলে রাশিয়ার থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির কারণে চড়া আন্তর্জাতিক শুল্কের যে বড়সড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে আপাতত স্বস্তি পেল ভারত এবং চীন।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ, নেপালের পথে ভারতে সরকার বদলের প্ল্যান? মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ প্রকাশ রাজের
চলতি বছরের জুলাইয়ে কিয়েভ সফর থেকে ফেরার পর ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের অন্যতম সমর্থক সেনেটর লিন্ডসে গ্র্যামের প্রয়াণ ঘটে। তাঁর স্মরণে ও সম্মানে গত মাসে ‘লিন্ডসে ও গ্র্যাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের সমর্থনে মার্কিন কংগ্রেসে বিপুল ভোটে পাশ হওয়া এই বিলের মূল লক্ষ্য ছিল মস্কোর জ্বালানি খাত ও ব্যাঙ্কগুলির ওপর আর্থিক আঘাত হেনে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার রাজস্ব আদায়ের পথ বন্ধ করা। এই আইনের অধীনে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী যেকোনো দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর নজিরবিহীন ক্ষমতা পেয়েছিল আমেরিকা।
তবে শুক্রবার গভীর রাতে এক বিশেষ জরুরি আদেশনামা জারি করে ট্রাম্প জানান, গ্র্যাহাম অ্যাক্টে উল্লিখিত সমস্ত নিষেধাজ্ঞা, কড়াকড়ি এবং অতিরিক্ত শুল্ক প্রয়োগের ক্ষমতা তিনি মকুব করছেন। কংগ্রেসে একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রাখা এবং এই মুহূর্তে এই ধরনের ছাড় প্রদান করাই প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থের’ অনুকূল।
আরও পড়ুনঃ নিরাপত্তায় কড়াকড়ি; ওপার বাংলায় বেজে উঠল পুজোর ঢাক, বিএনপি জমানায় প্রথম দুর্গাপুজো বাংলাদেশে
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আচমকা সিদ্ধান্তে বিশ্ব বাণিজ্য বাজারে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বিলে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পথ খোলা থাকায় ভারত ও চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া পণ্যের ওপর মারাত্মক মূল্যবৃদ্ধি ও বাণিজ্য সংকটের কালো মেঘ দেখা দিয়েছিল। তা থেকে বড়সড় স্বস্তি মিলল। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রকাশ্য সমালোচনা করে ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তারপরই রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের এই কৌশলগত ও নরম অবস্থান সামনে এল।
আমেরিকার শুল্ক বিল পাশের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, নিজেদের ১৪০ কোটি মানুষের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত যেকোনো উৎস থেকে তেল কিনতে প্রস্তুত। তবে ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে আপাতত কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সংঘাত ছাড়াই মস্কো থেকে তেল আমদানি বজায় রাখতে পারবে নয়াদিল্লি।


