বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি:
ভয়াবহ দাবানলের গ্রাসে লস অ্যাঞ্জেলেস সহ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। শুকনো হাওয়া ও অতিরিক্ত গরমের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই সর্বগ্রাসী আগুনে ইতিমধ্যেই একাধিক এলাকা ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে ও ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা। উপদ্রুত এলাকাগুলি থেকে বিপন্ন মানুষকে উদ্ধারে জোরকদমে নেমেছে জরুরি পরিষেবা দপ্তর ও ফায়ার ফাইটিং টিম।
আরও পড়ুনঃ নিজের আইন নিজেই তুলে নিলেন! ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আগের দিনই বড় সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তীব্র বাতাসের গতিবেগের কারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাহাড়ি এলাকা থেকে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। দাবানলের জেরে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন এবং বাণিজ্যিক সম্পত্তি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে আশেপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আকাশ, যার ফলে দৃশ্যমানতা যেমন কমেছে, তেমনই বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আক্রান্ত অঞ্চলগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং বন্ধ রাখা হয়েছে একাধিক প্রধান হাইওয়ে।
জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ চালাতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন শতাধিক অগ্নিনির্বাপক কর্মী। আকাশপথে হেলিকপ্টার ও বিশেষ বিমানের সাহায্যে জল এবং আগুন নেভানোর রাসায়নিক ছড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নিরন্তর চেষ্টা চলছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের তরফে উপদ্রুত এলাকাগুলিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নিরাপত্তায় কড়াকড়ি; ওপার বাংলায় বেজে উঠল পুজোর ঢাক, বিএনপি জমানায় প্রথম দুর্গাপুজো বাংলাদেশে
গৃহহীন হওয়া মানুষদের জন্য বিভিন্ন স্থান ও অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেড ক্রস সহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ত্রাণ বিতরণে এগিয়ে এসেছে। তবে বাতাসের গতিবেগ ও শুষ্ক আবহাওয়া না কমলে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলেই মনে করছেন উদ্ধারকারীরা।


