Sunday, 25 October, 2026
25 October
Homeদক্ষিণবঙ্গMa Tara: ‘জয় তারা, জয় তারা’; আজ শুক্লা চতুর্দশী, মা তারার আবির্ভাব...

Ma Tara: ‘জয় তারা, জয় তারা’; আজ শুক্লা চতুর্দশী, মা তারার আবির্ভাব দিবস

আজ শুক্লা চতুর্দশী। মা তারার আবির্ভাব দিবস। ‘জয় তারা, জয় তারা’

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ ধর্মীয় ও রাজ্য প্রতিবেদন:

আজ মহাসাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধপীঠ বীরভূমের তারাপীঠে পালিত হচ্ছে মা তারার ঐতিহ্যবাহী ‘আবির্ভাব দিবস’। শাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক লোককথা অনুযায়ী, এই শুক্লা চতুর্দশীর পুণ্য তিথিতেই তারাপীঠের মহাশ্মশানে মা তারার অলৌকিক আবির্ভাব ঘটেছিল। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই তারাপীঠ মন্দিরে নেমেছে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের জনস্রোত। দেবী দর্শনে ও মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন কাতারে কাতারে মানুষ।

আরও পড়ুনঃ  আসছে সে, আসছে! দুর্যোগ তবে সত্যিই আসছে

বণিক জয় দত্ত, শোল মাছের অলৌকিক ঘটনা ও ‘জীবিতকুণ্ড’

মা তারার আবির্ভাবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে সওদাগর জয় দত্ত এবং বিশ্বখ্যাত ‘জীবিতকুণ্ডে’র এক অদ্ভুত পৌরাণিক ইতিহাস।

কথিত আছে, বহু শতবর্ষ আগে জয় দত্ত নামে এক ধনকুবের বণিক দ্বারকা নদী ধরে বজরায় চেপে বাণিজ্যে যাচ্ছিলেন। তৎকালীন চণ্ডীপুর (আজকের তারাপীঠ) এলাকায় তিনি রাতের জন্য নোঙর ফেলেন। সেই রাতেই সর্পদংশনে মৃত্যু হয় বণিকের একমাত্র পুত্রের। পুজো-অর্চনা বা কোনো চিকিৎসাতেই সাড়া না পাওয়ায় চরম শোকে ভেঙে পড়েন বণিক।

ঠিক সেই সময়ে বজরার রাঁধুনী ও ভৃত্যরা নৈশভোজ তৈরির জন্য একটি শোল মাছ কেটে পাশের এক পুকুরে ধুতে নিয়ে যান। কিন্তু পুকুরের জলের সংস্পর্শে আসতেই ঘটে পরম অলৌকিক ঘটনা—কাটা ও খণ্ড-বিখণ্ড শোল মাছটি মুহূর্তের মধ্যে নতুন জীবন ফিরে পেয়ে সাঁতরে পুকুরের গভীরে চলে যায়!

ভৃত্যরা এই অবিশ্বাস্য ঘটনার কথা তৎক্ষণাৎ সওদাগর জয় দত্তকে জানান। বণিক ঈশ্বর কৃপার অলৌকিক সঙ্কেত পেয়ে সর্পদংশনে মৃত পুত্রকে দ্রুত সেই পুকুরের জলে স্নান করান। জলের স্পর্শ পাওয়ামাত্রই বণিকের মৃত পুত্র ‘জয় তারা, জয় তারা’ ধ্বনি দিয়ে জীবন ফিরে পেয়ে জেগে ওঠে। যে অলৌকিক কুণ্ডের জলে এই পুনর্জীবন লাভ ঘটেছিল, পরবর্তীকালে তা-ই বীরভূমের বিখ্যাত ‘জীবিতকুণ্ড’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের হুমকির মুখেও অনমনীয় তেহরান; ‘আজই ইরান আক্রমণ করতে পারি’ জানিয়ে দিলেন ট্রাম্প

স্বপ্নাদেশ ও শুক্লা চতুর্দশীর পুজো

সেই রাতেই বণিক জয় দত্তকে দেবী স্বয়ং চতুর্ভুজা রূপ ধরে স্বপ্নাদেশ দেন। মা জানান, মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল বৃক্ষের মূলে পঞ্চমুণ্ডির আসনের নিচে তাঁর ভয়াল অথচ করুণাময়ী শিলামূর্তি রয়েছে। সেদিনটি ছিল আশ্বিনের শুক্লা চতুর্দশী তিথি।

দেবী তারার নির্দেশ মেনে সেই শুভ তিথিতেই মহাশ্মশান থেকে মায়ের মূর্তি উদ্ধার করে মহাপুজোর সূচনা করেন জয় দত্ত। সেই থেকে প্রতি বছর এই ঐতিহাসিক শুক্লা চতুর্দশীতে মহাআড়ম্বরে তারা মায়ের আবির্ভাব উৎসব পালিত হয়ে আসছে এবং সূচনা পর্বের সেই ঐতিহ্য মেনে আজ অবধি তারাপীঠে একটানা অপ্রতিহত গতিতে চলছে মায়ের আরাধনা ও আরতি।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন