বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব এবার আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে জানানো বড় খবর অনুযায়ী, সমুদ্রমণ্ডলে অবস্থানরত নিম্নচাপ ব্যবস্থাটি আরও শক্তি বাড়িয়ে একটি ‘অতি গভীর নিম্নচাপে’ (Deep Depression) পরিণত হয়েছে। এটি অতি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে পূর্ণাঙ্গ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে চলেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। আবহাওয়াবিদরা সারাক্ষণ এর গতিপথ ও সম্ভাব্য শক্তি বৃদ্ধির ওপর কড়া নজর রাখছেন।
আরও পড়ুনঃ আসছে সে, আসছে! দুর্যোগ তবে সত্যিই আসছে
গতিপথ ও ওড়িশা-অন্ধ্র উপকূলে সম্ভাব্য প্রভাব
সম্ভাব্য গতিপথ অনুযায়ী, অতি গভীর নিম্নচাপটি মূলত উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে যাবে। উপকূলের দিকে এগোনোর পথে এটি অতি শক্তিশালী সাইক্লোনে রূপ নিতে পারে। ওড়িশা ও অন্ধ্র উপকূলে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের তাণ্ডব চললেও, পশ্চিমবঙ্গের ওপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব কিছুটা সীমিত থাকার আশা রয়েছে। তবে ঝড়ের পরোক্ষ আবহে রাজ্যজুড়ে আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে।
২৭ অক্টোবরের পর থেকে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির স্পেল
আগামী ২৭ অক্টোবরের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বায়ুমণ্ডলে এর প্রভাব ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হবে:
-
দক্ষিণবঙ্গ: ২৭ তারিখ বিকেল/রাতের পর থেকে রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ ক্রমশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি এবং বেশ কিছু উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বর্ষণের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
সমুদ্র উপকূলে পর্যটন ও সতর্কতা
সমুদ্র উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা এবং আবহাওয়ার খামখেয়ালি পরিবর্তনের কারণে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যাঁদের দিঘা, মন্দারমণি, পুরী বা অন্যান্য সমুদ্র উপকূলে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তরের সরকারি নির্দেশিকা দেখে তবেই সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘জয় তারা, জয় তারা’; আজ শুক্লা চতুর্দশী, মা তারার আবির্ভাব দিবস
উত্তরবঙ্গে ভূমিধসের ঝুঁকি ও পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতা
ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী প্রভাব কেবল দক্ষিণবঙ্গেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যার ফলে পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধসের (Landslides) ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। পাহাড় ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে অবশ্যই সেখানকার স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও আপডেট জেনে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া শ্রেয়।
পরিস্থিতির প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের সাথে সাথে আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, তাই সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি আবহাওয়া বুলেটিনের দিকে নজর রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।


