অবশেষে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে চরম তাণ্ডব চালিয়ে আছড়ে পড়ল অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ (Cyclone Arnab Alert)। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গত কয়েক ঘণ্টা ধরেই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছিল এই ঘূর্ণিঝড়টি। কাকিনাদা, বিশাখাপত্তনম এবং বাপতলার মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুল শক্তি নিয়ে আঘাত হানে ‘অর্ণব’।

আরও পড়ুনঃ আজই রাজ্যে জোড়া এনকাউন্টার, গাইঘাটার পর ধুলিয়ান; কেঁপে উঠল রাজ্য
ল্যান্ডফলের সময় ঘূর্ণিঝড়টির তাণ্ডব ছিল মারাত্মক। উপকূলবর্তী এলাকায় একটানা ঝোড়ো বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার ছুঁয়ে ফেলে, যা মাঝে মাঝে সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় আছড়ে পড়ে। প্রবল গতিবেগের এই ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে উপকূল সংলগ্ন একাধিক এলাকা। একের পর এক বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে, বিশাল বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে প্রধান প্রধান রাস্তাঘাট। পাশাপাশি নিচু এলাকাগুলিতে প্রকাণ্ড সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ঢুকে পড়ায় জলমগ্ন হয়ে পড়েছে একাধিক গ্রাম ও বাসস্থান।

উদ্বেগজনক পরিস্থিতির আশঙ্কায় অন্ধ্রপ্রদেশ প্রশাসন এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলবর্তী অঞ্চলে আগেই ‘রেড অ্যালার্ট’ বা লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ঝড়ের মূল প্রভাব শুরু হওয়ার আগেই উপকূলের নিচু এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সরকারি ত্রাণ ও আশ্রয়শিবিরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপকূলীয় এলাকায় আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে জাতীয় এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF ও SDRF)। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণ পৌঁছানো এবং উপড়ে যাওয়া গাছ সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সব মামলার শুনানি স্থগিত

অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর সরাসরি আঘাত অন্ধ্রপ্রদেশে হলেও, এর মারাত্মক পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায়। দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলি— যেমন পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং ঝাড়গ্রামে ভোর থেকেই ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই ঝড়টি স্থলভাগের ওপর দিয়ে অগ্রসর হতে হতে ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে।


