কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
আসন্ন উৎসবের মরশুমে উত্তরবঙ্গে মাদক পাচারকারীদের বড়সড় ছক বানচাল করল শিলিগুড়ি স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) এবং নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) জিআরপি-র সাদা পোশাকের পুলিশ। গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ১৫৬০৮ ডাউন শিলচর-তিরুঅনন্তপুরম আরোনাই এক্সপ্রেসে এক যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ দুই মহিলা ও এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৮টি সাবানের বাক্সে লুকানো প্রায় ২৫০ গ্রাম উচ্চমানের ব্রাউন সুগার। বাজেয়াপ্ত হওয়া এই আন্তর্জাতিক মানের মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি টাকারও বেশি বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
এসি কামরায় হানা ও ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অভিযান
পুলিশ সূত্রে খবর, অসম থেকে এই বিশাল পরিমাণ মাদকের চালান নিয়ে ট্রেন মারফত চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল পাচারকারীরা।
-
গোপন সূত্রে অভিযান: গোপন সূত্র মারফত খবর পেয়ে এনজেপি স্টেশনের ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনটি পৌঁছানো মাত্রই ডাউন আরোনাই এক্সপ্রেসের নির্দিষ্ট একটি এসি (AC) কামরায় তল্লাশি চলায় তদন্তকারী টিম।
-
সাবানের বাক্সে মাদক: এসি কামরা থেকে চিহ্নিত ৩ জন যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তাদের কাছে থাকা দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ থেকে মোট ১৮টি সাবানের কেস (Soap case) উদ্ধার হয়—একটি ব্যাগে ৮টি এবং অন্যটিতে ১০টি। সেই কেসগুলি খুলতেই থরে থরে সাজানো ২৫০ গ্রাম ব্রাউন সুগার ধরা পড়ে।
অসম থেকে চেন্নাই কানেকশন: ধৃতদের পরিচয়
জিআরপি সূত্রে জানানো হয়েছে, ধৃত তিনজনের বাড়িই অসমের হাইলাকান্দি এলাকায়:
-
আব্দুল হালিম মজুমদার (৩১)
-
রাজিয়া বেগম লস্কর (২৮)
-
খাজিজা বেগম লস্কর (৩২)
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ধৃতরা অসমের সীমান্ত এলাকা থেকে এই বিপুল মাদক সংগ্রহ করে দূরপাল্লার ট্রেনে চেপে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ে সরবরাহের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। এসি কোচের যাত্রীদের সাধারণত নজরদারির বাইরে রাখা হয়—সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিল তারা।
আরও পড়ুনঃ সাউথ সিটি কমপ্লেক্সের ২৮ তলায় আগুন! দমকলের সাতটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে
আদালতে পেশ ও আন্তঃরাজ্য চক্রের খোঁজ
ধৃতদের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত এনডিপিএস (NDPS) আইনের সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে শনিবার ধৃতদের জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হবে।
অসমের কোন প্রভাবশালী সিন্ডিকেট থেকে এই মাদক কেনা হয়েছিল এবং চেন্নাইয়ের কাদের হাতে এটি হস্তান্তরের কথা ছিল, তার পুরো শেকল (chain) খতিয়ে দেখতে আন্তঃরাজ্য তদন্ত শুরু করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট ও জিআরপি।


