বিশেষ পরিবেশ ও শহর সংবাদ প্রতিবেদন:
সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ, পরিবেশ আদালতের গাইডলাইন এবং পুলিশের লাগাতার সতর্কবার্তাকেও সম্পূর্ণরূপে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দীপাবলির রাতে কলকাতার রাজপথ থেকে অলিগলি—সর্বত্র চলল কানফাটানো শব্দবাজির অবাধ তান্ডব। উৎসবের আনন্দের আড়ালে রাতের শহর একপ্রকার যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। একদিকে যখন পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও নির্বিকার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে তীব্র শব্দ ও ধোঁয়ায় চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বাড়ির পোষ্য থেকে শুরু করে রাস্তার অসহায় সারমেয় ও অন্যান্য প্রাণীকূল।
১. আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দিয়ে দেদার বাজি ফাটানো
-
নিয়মের তোয়াক্কা নেই: আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, নির্দিষ্ট কিছু সময় ও নির্ধারিত মাত্রার (সবুজ বাজি ছাড়া অন্য কোনো) শব্দবাজি ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু কালীপুজো ও দীপাবলির রাতে কলকাতার একাধিক এলাকায় সেই নির্দেশকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়।
-
শব্দবাজির দাপট: রাত বাড়তেই উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা—বাগবাজার, শ্যামবাজার, মানিকতলা থেকে শুরু করে বেহালা, যাদবপুর, গড়িয়া কিংবা কসবায় মুহুর্মুহু কেঁপে উঠছে ইমারতগুলি। আকাশে ফাটা রকেটের বিকট আওয়াজ নিষিদ্ধ চকোলেট বোমার শব্দে প্রবীণ নাগরিক ও অসুস্থ মানুষদের রাতের ঘুম উড়ে যায়। উৎসবের মেজাজ ছাপিয়ে ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে সর্বত্র।
২. প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা ও নজরদারির অভাব
-
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা: অভিযোগ উঠেছে, বহু অঞ্চলেই পুলিশি টহল বা নজরদারি ছিল নামমাত্র। কোথাও কোথাও অভিযোগের পরেও পুলিশি হস্তক্ষেপে তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। অনেক এলাকায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বাজি ফাটানোর মহোৎসব চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের ক্ষোভ।
-
আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন: প্রশাসনের এই শিথিল মনোভাবের সুযোগ নিয়েই পরিবেশ আইন এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধিগুলিকে প্রকাশ্যেই লঙ্ঘন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভাল শুরু করেও নামল শেয়ারবাজার, হতাশ লগ্নিকারীরা, স্বস্তি ফেরাল স্মলক্যাপ সূচক
৩. ভয়ে তটস্থ বাড়ির পোষ্য ও রাস্তার সারমেয়র দল
মানুষের উল্লাসের মাঝে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ ও আতঙ্কের শিকার হয়েছে অবলা প্রাণীকূল।
-
পথের ও বাড়ির সারমেয়র আতঙ্ক: বিকট শব্দ এবং বাজির তীব্র আলোর ঝলকানিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে কলকাতার রাস্তার হাজার হাজার কুকুর ও বেড়াল। ভয়ে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে তাদের অনেকেরই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এদিক-ওদিক ছুটতে দেখা যায়।
-
শারীরিক ও মানসিক আঘাত: বহু পশুপালক ও প্রাণীপ্রেমীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত শব্দদূষণের কারণে পোষ্যদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, অনেকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে খাদ্যগ্রহণ বন্ধ করে দেয়। রাস্তায় থাকা সারমেয়দের অনেকে দিকভ্রান্ত হয়ে গাড়ির ধাক্কায় আহতও হয়েছে।
উৎসবের আলোয় অন্ধকার দূর হওয়ার কথা থাকলেও, দায়িত্বজ্ঞানহীন শব্দবাজির দৌরাত্ম্য এবং প্রশাসনের উদাসীনতা শহরবাসীকে একরাশ হতাশা এবং অসহায়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।


